ডনেটস্ক অঞ্চলের মারিওপুলে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিন রুশপন্থি নিহত হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সরকারি ভবন পুনরুদ্ধারে ইউক্রেনের সেনা অভিযানের প্রেক্ষিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটি গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে বলে সতর্কতা জানিয়েছেন। পূর্ব ইউক্রেনে এরকম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ইউক্রেনের বৈঠক করার কথা রয়েছে।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর্সেন আভাকভ বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, প্রায় তিনশ’ জনের মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী মারিওপুলে একটি সামরিক ইউনিটে রাতভর হামলা চালায়। তাদের পেট্রোল বোমার জবাবে সেনাসদস্যরা সরাসরি গুলি করে। এতে তিনজন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়। আভাকভ আরো জানান, হামলাকারী ৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে এবং সেনাসদস্যদের মধ্যে কেউ নিহত হননি। উল্লেখ্য, আঝভ সাগরের কাছাকাছি মারিওপুলে ডনেটস্ক অঞ্চলের বেশ অনেকটা দক্ষিণে অবস্থিত। রুশপন্থিরা সেখানে কয়েকটি সরকারি ভবন দখল করেছে।
এর আগে পূর্ব ইউক্রেনে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর সামরিক অভিযানে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের হুমকি সৃষ্টি হয়েছে বলে সতর্কতা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুুতিন। ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বুধবার বলা হয়, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি বলেন, দেশটির সংকট কার্যত গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে ঠেকেছে। এই সময় দুই নেতাই ইউক্রেন নিয়ে জেনেভা আলোচনাকে গুরুত্ব দেন।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের স্লাভিয়ানস্কসহ প্রায় ১০টি শহরের পুলিশ স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর গত শনিবার দখলে নেয় রুশপন্থি অস্ত্রধারীরা। তাদের হটাতে সেখানে অভিযান শুরু করেছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা বাহিনী। গত মঙ্গলবার এসব স্থানে ট্যাংকও মোতায়েন করা হয়েছে। কিয়েভের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে মস্কো বলেছে, সেখানে শক্তি প্রয়োগ করা হলে তার ফল ভালো হবে না। অপরদিকে, পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, সরকারি ভবন দখলে রুশপন্থিদের সহযোগিতা করছে রাশিয়া।
