বাজেটে পৃথক
বরাদ্দের আশ্বাস
চর ও হাওরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য বাজেটে আলাদাভাবে বরাদ্দ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান খান। বৃহস্পতিবার ‘চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন কেন জরুরি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব অঞ্চলের মানুষের জন্য আলাদা বাজেট দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা জানান। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয় ও ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স।
মতবিনিময় সভায় সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর জাহিদ রহমান দেশের উত্তর-পশ্চিম ও উপকূলীয় চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্রসহ প্রতিবেদন তুলে ধরেন। যেখানে দেখান হয়, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চরগুলোতে ৫০-৬০ লাখ মানুষ সংগ্রাম করে ও ঝুঁকির মধ্য দিয়ে বসবাস করছে। চরে বসবাসরত ৬৫ শতাংশ মানুষ পর্যাপ্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার থেকেও বঞ্চিত। এসব এলাকার ৮৫ ভাগ গর্ভবতী নারী গর্ভকালীন বা প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।
গবেষণায় উঠে এসেছে, বিভিন্ন সমস্যার কারণে চরের ৫৬ ভাগ শিশু নিয়মিত স্কুলে যায় না। এ ছাড়া চরের ৭৯ ভাগ মানুষ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। চরের মানুষের উন্নয়নে বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয় না।
চরাঞ্চলের মানুষ দুই বেলা খেয়ে জীবনধারণ করে থাকে। এসব এলাকার মানুষের মান উন্নয়নে বাজেটে ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও এ অর্থ ব্যবহার হয়নি। পরবর্তীতে চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে কোনো পৃথক বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়নি। বক্তারা চরাঞ্চল মানুষের জীবন মান উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ে একটি চর ফাউন্ডেশন ও চর উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
চরের অতি দরিদ্র মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে এবং অতিদরিদ্র অবস্থা থেকে বের করে সরকারকে কয়েকটি পরামর্শ দেন তারা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- জাতীয় পরিকল্পনা ও জাতীয় বাজেটে আলাদাভাবে চরের জন্য বরাদ্দ রাখা।
কৃষি খাত ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে চরাঞ্চলে আরও উন্নত ও যুগোপযোগী করা। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা বিষয়ে বাজেটে বরাদ্দ রাখা। দুর্যোগকালীন সময়, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান বিষয়ে ভূমিকা রাখা। তথ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূমি অধিকার বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া।
সংগঠনের সভাপতি খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আজিজুল হক আরজু, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাধ্যক্ষ মোকাদ্দেম হোসেন, সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর শাহিন উল আলম প্রমুখ।
