নবম-দশম শ্রেণির পড়াশোনা

আপডেট : ২৪ মে ২০১৯, ২০:২৬

বাংলা

 

 

মো. মিজানুর রহমান, সহকারি শিক্ষক (বাংলা)

গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়। গাইবান্ধা

 

 

‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হল’

 

বন্ধুরা, আজ প্রকাশিত হলো  স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হল। কবিতার নমুনা উত্তর।

১.

উদ্দীপক-১:

জোয়ার যেমন এসে কাঁপায়?

নীরব নদীটাকে  

শেখ মুজিবের আহ্বান তাই

কাঁপালো এই বাঙালি জাতিকে

উদ্দীপক-২:

তোরা তো একাত্তুরের শকুন

ঠুকরে ঠুকরে খেয়েছিস আমার পিতার লাশ

অজস্র শহীদের তাজা খুন।

ক. বজ্রকণ্ঠ বলতে কার কণ্ঠস্বর কে বোঝানো হয়েছে?

ক. ‘শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে’- চরণটি তাত্পর্য লেখ?

গ. উদ্দীপক-১ এর বক্তব্য - ‘ স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হল ’ কবিতার কোন বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপক-২ এর বক্তব্য ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হল’ কবিতার মূল বক্তব্যকে ধারণ করে কী- বিশ্লেষণ করো।

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর:

ক. বজ্রকণ্ঠ বলতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্ঠস্বর কে বোঝানো হয়েছে।

খ. ‘শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে’- চরণটি দ্বারা কবি ইতিহাসের বহু অধ্যায় পার হয়ে বাঙালি জাতি যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে সেটিকেই বোঝাতে চেয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় পলাশীর প্রান্তরে ১৭৫৭ সালে। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন হয় সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে। ১৯৩৬ সালে চট্টগ্রামে স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপ্লবী সূর্যসেনের নেতৃত্বে ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র যুদ্ধ হয় জালালাবাদ পাহাড়ে। অতঃপর পাকিস্তান সৃষ্টির এক বছর পর থেকে শুরু হয় পাকিস্তানি শাসকদের নানা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। ১৯৪৭ সালের ভাষা সংগ্রাম থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, তারপর ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। সুতরাং ইতিহাসের বহু অধ্যায় পার হয়ে নানা সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি প্রিয় স্বাধীনতা। তাই ‘শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে’- চরণটি অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ।

গ. উদ্দীপক -১ এর বক্তব্য “স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হল’ কবিতার গণজাগরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হল’- এ কবিতা অনুসারে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমকে  জাগ্রত করে। ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর রমনা রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্মুখে বজ্রকণ্ঠে পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের নির্যাতন থেকে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের মধ্যে সূচিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান। সেদিন কৃষক শ্রমিক মজুর বুদ্ধিজীবী শিশু-কিশোর নারী-পুরুষ যুবক বৃদ্ধ সবাই সমবেত হয়েছিল বাঙালির মহান নেতার কথা শোনার জন্য। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাঙালিকে যুদ্ধের জন্য অনুপ্রাণিত করে। বাঙালিকে বীরের জাতিতে পরিণত করে।

উদ্দীপকে  ছন্দের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার বিষয়টি চিত্রায়িত হয়েছে। এখানে বঙ্গবন্ধুর সেই জাগরণের ভাষাকে জোয়ারের সাথে তুলনা করা হয়েছে আর নীরব নদীকে বাঙালি জাতির সাথে তুলনা করা হয়েছে।

তাই বলা যায় উদ্দীপকের বক্তব্য স্বাধীনতা এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো কবিতার বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ঘ. উদ্দীপক-২ ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ কবিতার মূল বক্তব্যকে ধারণ না করলেও একটি বিশেষ দিককে ধারণ করেছে। স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল কবিতার মূলভাব হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণ। এই ভাষণের যে উক্তি - ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই উক্তির মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের হয়েছে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু দেশের হাল ধরেছিলেন এবং ৭৫ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করলেও পঁচাত্তরের ১৫ ই আগস্ট  পরবর্তী যে ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমিকভাবে ঘটেছে তারই প্রেক্ষিত কবি তুলে ধরেছেন যা উদ্দীপকের সঙ্গে তাত্পর্যপূর্ণ ।

৭৫ পরবর্তী সময়ে যে ইতিহাস বিকৃতির বিষয়গুলো ঘটেছে তা কবি নির্মলেন্দু গুণ কবিতাটির প্রথম দিকে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। এক্ষেত্রে কবি শিশু পার্কের কথা বলেছেন, এই শিশু পার্ক, ফুলে শোভিত উদ্যান, তন্দ্রাচ্ছন্ন বিবর্ণ বিকেল সেদিন ছিল না। কবি ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন সেদিনের সব স্মৃতি মুছে দিতে উদ্যত হয়েছে কালো হাত। তাই কবিহীন এই বিমুখ প্রান্তরে কবির বিরুদ্ধে কবি, মাঠের বিরুদ্ধে মাঠ, বিকেলের বিরুদ্ধে বিকেল,  উদ্যানের বিরুদ্ধে উদ্যান, মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ কথাগুলো নির্বিঘ্নে বলেছেন।

উদ্দীপক-২ এ এই বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এখানে একাত্তরের শকুন বলতে যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে তাদেরকে বোঝানো হয়েছে। তারা কলঙ্কিত করেছে অজস্র শহীদের তাজা রক্তকে। তাই বলা যায় উদ্দীপক ২ স্বাধীনতা এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো কবিতা সামগ্রিকভাবে ধারণ করতে না পারলেও একটি বিশেষ দিককে ধারণ করেছে এ বিষযে কোনো সন্দেহ নেই।