জোনাকি পোকা

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৪, ২০:০১
শহরে যারা থাকেন তারা হয়তো বেশি দেখেননি, কিন্তু গ্রামে যারা থেকেছেন তারা অবশ্যই দেখেছেন জোনকি পোকা। টিমটিমে আলোর অপূর্ব শোভা দেখিয়ে তাদের এদিক ওদিকে ঘুরে বেড়িয়ে রাতের প্রকৃতিতে অনন্য দৃশ্যের অবতারণা করে। খুব কাছ থেকে না দেখলে এদের এই আলো সবার কাছে একটা রহস্যই থেকে যায়। যারা দেখেছেন তাদের মনে কি আদৌ প্রশ্ন জাগেনি যে—এই নীলাভ-সবুজ দ্যুতির সত্যিকারের রহস্য কি! এই আলো আসে কোথা থেকে! উত্তর খুব সহজ, খুব কাছ থেকে তোলা ছবি দেখলে বোঝা যায় এই রহস্যের উত্পত্তি সম্পর্কে। দেখা যায় যে, এই পতঙ্গটির তলপেটের দিকেই রয়েছে এই আলোর উত্পত্তি। বাস্তবিকই তাই। জোনাকির তলপেটের শেষের দিকে আলাদা একটি উপাঙ্গ আছে, যেখান থেকে এই আলোর উত্পত্তি হয়। এই প্রত্যঙ্গ হতে লুসিফেরিন নামক এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরিত হয় যা জোনাকির শ্বাসনালী দ্বারা গৃহীত অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয়। এই জারণ বা অক্সিডেশনেলুসিফারেজ নামক জৈব অনুঘটক বা এনজাইম সহায়তা করে। জারণ বিক্রিয়াটিতে যে পরিমাণ শক্তি বা আলো উত্পন্ন হয়, তারমাত্র ২% হলো তাপ। তাই এই আলো এতটা স্নিগ্ধ মনে হয়। ওই বিশেষ অঙ্গটির স্নায়ু দ্বারা এই আলোর স্থায়িত্ব নিয়ন্ত্রিত হয়। এই আলো তারা ব্যবহার করে তাদের জৈবিক কাজের জন্য। স্ত্রী প্রজাতির জোনাকিরা এই আলো দিয়ে পুরুষ জোনাকিকে আকর্ষণ করে, ডিম পাড়ে এবং মারা যায়। নিষেকের পর লার্ভা দশায় অনেক দিন অবস্থান করতে হয় তাদের। তবে এই আকর্ষণের ব্যাপারটা জাতিভেদে ভিন্ন। যেমন, আমেরিকায় এক প্রকারের জোনাকি আছে, যাদের পুরুষ প্রজাতি পাঁচ সেকেন্ড অন্তর জ্বলে উঠে, আর এর প্রতিক্রিয়ায় মাটিতে অপেক্ষমান স্ত্রী জোনাকি দুই সেকেন্ড পর পর জ্বলে উঠে।