সেরাদের সেরা যারা

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৪, ২০:০২
এপ্রিল ২৩, ১৮৫৮। জার্মানির হলস্তেইন শহরে জন্ম গ্রহণ করেন জোহান জুলিয়াস উইলহেম প্ল্যাঙ্ক এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী এমা প্যাটযিগের চতুর্থ সন্তান কার্ল এমাট লুডউইক মার্কস প্ল্যাঙ্ক। শতাব্দীর সবচেয়ে আলোচিত এই ভবিষ্যত্ নক্ষত্র নিজ বয়স ১০ হওয়ার সময়ই সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় নিজের নামের প্রথম সাইনটিতে লেখেন, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক! আর এই উজ্জ্বল নক্ষত্রই একটা সময় আবিষ্কার করেন কালজয়ী কোয়ানটাম থিওরি। বিখ্যাত এই তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীর অনেক অবদান রয়েছে, কিন্তু বিশ্ব দরবারে তার খ্যাতি আসে কোয়ান্টাম তত্ত্বের জন্মদাতা হিসেবে। ২০ শতকের পদার্থ বিজ্ঞানের মৌলিক তত্ত্ব গঠন করতে আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, স্থান এবং সময় বোঝার বৈপ্লবিক সূচনা যেমন, পারমাণবিক এবং অতিপারমাণবিক প্রসেসের গঠনের সাথে সমন্বয় করে এক নতুন পদার্থ বিদ্যার সৃষ্টি করেন এই বিজ্ঞানী। ছোটবেলা থেকেই প্ল্যাঙ্ক ছিলেন শান্ত ও চিন্তাশীল। ১৮৬৭-তে প্লাংক হারমান নোড়া নামক একজন গণিতবিদের অভিভাবকত্বের অধীনে আসেন যেখানে মাক্সিমিলিয়ান্স স্কুলে নাম নথিভুক্ত করা হয় তার এবং তাকে শেখান হয় জ্যোতির্বিদ্যা, বলবিজ্ঞান ও গণিত। ১৭ বছর বয়সে তিনি সম্পন্ন করেন তার স্নাতক। সর্ব প্রথম শক্তির নিত্যতা নীতির যথাযথ প্রমাণ এবং পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি সংস্পর্শে আসেন পদার্থবিজ্ঞানের। অক্টোবর ১৮৭৮ সালে প্লাংক তার কোয়ালিফাইং পরীক্ষা পাস করেন এবং ফেব্রুয়ারি ১৮৭৯ সালে, তিনি প্রকাশ করেন তার প্রথম গবেষণাধর্মী বই ‘তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় আইন’ এবং জুন ১৮৮০ সালে তিনি বিভিন্ন তাপমাত্রার আইসোট্রপিক সুস্থিতি ও কপার আইসোট্রপার অর্পিত থিসিস উপস্থাপন করেন। যার ধারাবাহিকতায় অবশেষে ১৯২০ সালে মাক্স প্ল্যাঙ্ক তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আইনস্টাইনের সাথে মিলে জন্ম দিলেন কোয়ানটাম থিওরির। কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের এমন একটি অংশ যাতে কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান এবং সাধারণ আপেক্ষিকতাকে একত্রিত করার চেষ্টা করা হয়। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান প্রকৃতির তিনটি মৌলিক বলকেই ব্যাখ্যা করতে পারে এবং সাধারণ আপেক্ষিকতা প্রকৃতির চতুর্থ মৌলিক বল তথা মহাকর্ষ বলকে ব্যাখ্যা করে। সাধারণ আপেক্ষিকতা হলো সুবিশাল স্কেলে মহাবিশ্বের পদ্ধতিসমূহ ব্যাখ্যা করার জন্য এবং কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান হলো অতিপারমানবিক পর্যায়ের ব্যাখ্যার জন্য। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলে ১৯১৮-তে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক। ১৯৪৭ এর ৪ অক্টোবর দার্থবিদ্যার এই মহানায়ক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।