বোনকে ধর্ষণের ঘটনা জানতে পেরে প্রতিশোধ নিতে ভাই বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে ধর্ষককে। হত্যার পর ধর্ষকের মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় সে। আর এই মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দা গ্রাম থেকে ভাই-বোনকে গ্রেফতার করে। গত ১৪ এপ্রিল রাতে রাজধানীর সূত্রাপুরের প্যারিদাস রোডের ২৬/১ নম্বর বাড়ি থেকে ইন্দ্রজিত্ নামে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় পুলিশ আজহারুল ইসলাম (২২) ও তার বোন জেসমিন খাতুনকে (১৮) পুলিশ গ্রেফতার করে।
সূত্রাপুর থানার ওসি খলিলুর রহমান পাটোয়ারী জানান, খুনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে সাতক্ষীরা থেকে ভাই-বোনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে শনিবার (আজ) আদালতে পাঠানো হবে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আজহারুল ইসলাম খুনের ঘটনা স্বীকার করেছেন। পুলিশের কাছে আজহারুল জানান, পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেত্রীর সাথে যোগাযোগ করেন। তাকে ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার পূর্ব পরিচিত বরগুনা জেলার উপেন্দ্র সিংহের ছেলে ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিত্ সিংহের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। সেই সূত্র ধরে কয়েকদিন আগে আজহারুল ইসলাম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্দ্রজিতের সাথে যোগাযোগ করেন। ৬ এপ্রিল আজহার তার ছোট বোনকে সাথে নিয়ে ঢাকায় ইন্দ্রজিতের বাসায় ওঠেন। ঐ সময় ইন্দ্রজিতের স্ত্রী ও সন্তানরা যশোরের কেশবপুরে ছিলেন। ৭ এপ্রিল আজহারুলকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নাগরিক সনদপত্র আনার জন্য বলেন ইন্দ্রজিত্ সিংহ। ঐ দিন রাতে আজহারুল সাতক্ষীরায় চলে যান। ৯ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছে জানতে পারেন যে ইন্দ্রজিত্ সিংহ তার বোনকে ২ দিন ধরে ধর্ষণ করেছে। বোনের কাছ থেকে এ বিষয়টি জানার পর ১২ এপ্রিল রাত ১০ টার দিকে ইন্দ্রজিতের সাথে গভীর প্রণয়ের অভিনয় করেন জেসমিন। এসময় তিনি রান্নাঘর থেকে বটি এনে ইন্দ্রজিতের ওপর এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন। এক পর্যায়ে গলা কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। ঐ রাতেই তারা ঢাকা থেকে সাতক্ষীরায় পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় ইন্দ্রজিতের মোবাইল ফোনসেটটি তিনি নিয়ে যান।
এদিকে, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, খুন হওয়া ইন্দ্রজিত্ সিংহের মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। কলারোয়া থানার ওসি মুন্সী মোফাজ্জেল হোসেন কনক এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঢাকা থেকে পুলিশ এসে তাদেরকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে।
