ইতালির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ফ্যাবিও ক্যানাভারো মনে করছেন, সামপ্রতিক বাজে ফর্মের ধারা ভেঙ্গে বিশ্বকাপে শক্তিশালী দল হিসাবেই আবির্ভূত হবে ইতালি। পাশাপাশি নিজের দেশকে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসাবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। যদিও, বাছাইপর্ব থেকে চূড়ান্ত পর্বে উত্তরণে যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হয় বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ী দেশটিকে।
বিশ্বকাপের ২০০৬ আসরের ফাইনালে ক্যানাভারোর নেতৃত্বে ইতালি টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা যেতে। যেটা ছিল দলটির চতুর্থ শিরোপা। কিন্তু ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্বশেষ আসরে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই লজ্জাজনকভাবে বিদায় নেয়।
কিন্তু বিশ্বকাপ ব্যর্থতা কাটিয়ে সিজার প্রাণদেল্লির নেতৃত্বে অচীরেই ঘুরে দাঁড়ায় ইতালি। ইউরোর ২০১২ আসরে সবাইকে অনেকটা চমকে দিয়েই ফাইনালে পৌঁছে যায় তারা। অবশ্য, সেখানে শক্তিশালী স্পেনের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে রানার্স আপ ট্রফি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।
এবারও ডি গ্রুপে কঠিন এক গ্রুপেই পড়েছে ইতালি। সেখানে তাদের সাথে আছে ইংল্যান্ড, উরুগুয়ে, কোস্টারিকার মতো তিন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।
তবে ক্যানাভারো মনে করছেন অভিজ্ঞতা বিচারে বর্তমান দলটি খুব সমৃদ্ধ না হলেও প্রাণদেল্লির সুদক্ষ তত্ত্বাবধানে বিশ্বকাপে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসাবেই নিজেদের প্রমাণ করবে দলটি। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আহলি ক্লাবে সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করা ক্যানাভারো ফিফা উইকলিকে বলেন, ‘ইতালি শক্তিশালী একটি দল এবং সিজার প্রাণদেল্লি দারুণ একজন কোচ।’
২০১১ সালে ফুটবলকে বিদায় জানানো ক্যানাভারো কথা বলেছেন ব্রাজিলে সফলভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়েও। সব বাঁধা উতরে ফুটবলপ্রেমী ব্রাজিলের মানুষ দারুণ একটা বিশ্বকাপ উপহার দেবে বলেই বিশ্বাস এই সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকার। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ব্রাজিলকে নিয়ে কোন কথা বলি তখন ফুটবলের প্রসঙ্গটা অবধারিতভাবে এসেই যায়। অবশ্যই তাদের আয়োজন নিয়ে যেসব কথা আমরা শুনছি তার সবগুলোই ইতিবাচক নয়। আমরা বহুদিন ধরেই শুনছি তারা স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শেষ করতে দেরি করে ফেলছে। তবে শেষমেষ তারা অসাধারণ একটা বিশ্বকাপ উপহার দেবে বলেই আমার মনে হয়। আমরা সবাই এটা দারুণ উপভোগ করবো।’
এদিকে, এই মুহূর্তে প্রাণদেল্লির সমর্থনে কথা বললেও ভবিষ্যতে নিজেকে তার জায়গায় দেখতে চান বলেও জানিয়েছেন ১৩৬ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই তারকা। ৪০ বছর বয়সী ক্যানাভারো বলেন, ‘এই মুহূর্তে কোচ এবং ক্রীড়া পরিচালক হিসাবে কাজ করাটা আমি উপভোগ করছি। নিজের ভাবনাগুলো অনুশীলনে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়াটা আমি উপভোগ করছি। আমি কখনো ইতালির কোচ হিসাবে নিজেকে দেখতে চাই? অবশ্যই। আমি একজন ইতালিয়ান এবং নিজের দেশের হয়ে কাজ করার সুযোগ পেলে সেটা হবে গর্বের। তবে, বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন সংস্কৃতির নানা ফুটবল মস্তিষ্কের সঙ্গে কাজ করাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
কোচ হিসাবে নিজের ভবিষ্যতকে উজ্জ্বলই দেখছেন এই ডিফেন্ডার, ‘আমি প্রতিনিয়তই নিজের জন্য নতুন লক্ষ্য ঠিক করছি। আমি একটা দলের প্রধান কোচ হিসাবে নিজেকে দেখতে চাই। বিশ্বের সেরা কিছু কোচের কাছ থেকে আমার সুযোগ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাটাই আমি সবার সাথে বিনিময় করতে চাই। আমার মনে হয় আমি প্রস্তুত।’
