বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আর খেলবে না ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। গতকাল রবিবার দলটির মালিক সেলিম চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দিয়েছেন তৃতীয় বিপিএলে তিনি আর দল গঠন করবেন না। এমনকি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিকানা স্বত্ব ছেড়ে দেবারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে টালবাহানা, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠার পরও বিপিএলের তৃতীয় আসর নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর মধ্যেই তৃতীয় এই আসরটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিলো ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। সেলিম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ক্রিকেট খেলার জন্যই বিপিএলে অংশ নিয়েছি। কিন্তু কোনো অপবাদ মাথায় নিয়ে বিপিএলে অংশ নিতে চাই না। তবে আমরা চাই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়মিত মাঠে গড়াবে।’ বিপিএলের উপকারিতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিপিএল শুরুর পর বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক উন্নতি হয়েছে। তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি যেন না হয় সেই চক্রান্ত করেই বিপিএল বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের অপরাধ থাকলে আমরা খেলবো না। কিন্তু খেলা কেন বন্ধ হবে? আমি টাকার লাভের জন্য বিপিএলে অংশ নেইনি। ক্রিকেটের উন্নতির জন্য বিপিএলে অংশ নিয়েছি। বিপিএলে খেলোয়াড়দের উন্নতিতে দেশের ক্রিকেটের উন্নতি হয়েছে। তাই আমরা চাই আমরা না থাকলেও যেন নিয়মিত বিপিএল হয়। আমাদের দল যে কেউ নিতে পারে। আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।’
ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জের ধরে তাদেরকে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে সেটার প্রতিবাদেই এমন সিদ্ধান্ত কিনা জানতে চাওয়া ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের কাছে। জবাবে সেলিম চৌধুরী বলেন, ‘আমার অনুরোধ এমন সমালোচনা করুন যা গঠনমূলক হয়। এমন কোনো সমালোচনা করবেন না যা কারো ব্যক্তিগত বিষয়, যা পরে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে অপমানের হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আপনাদের সামনে এর ব্যাখা তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার পর এটাই আমাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলন। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের চ্যাম্পিয়ন হবার জন্য খেলে। দুই বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। আমরা টাকা খরচ করে অপমান নিতে রাজী নই এবং আমি বলব যারা টাকা ব্যয় করে বিপিএলে দল বানাছে তাদের কাউকে যেন অপমান করা না হয়।’
তার মতে, বিপিএল বন্ধ হবার কারণেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভরাডুবি হয়েছে, ‘ভারতের আইপিএল নিয়ে বহু কথা হচ্ছে। মামলা হয়েছে। তাতে কি আইপিএল বন্ধ হয়ে গেছে! না তা হয়নি। বরং আইপিএল চলছে এবং চলবে। আমার কথা হল যে কোন বিষয়ে অনেক কথা হতে পারে। অনেক কিছু ঘটতে পারে। সে জন্য একটি ধারাবাহিকতা বন্ধ হতে পারে না। আমাদের দেশের জন্য, ক্রিকেটের জন্য যদি জানুয়ারীতে বিপিএল অনুষ্ঠিত হত তাহলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ আরো ভালো কিছু করত।’
তবে ফিক্সিং কখনোই দেশের ক্রিকেটের জন্য মঙ্গলজনক নয় বলেই মনে করছেন সেলিম চৌধুরী, ‘এখন শোনা যাচ্ছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কথা। সত্যি কথা বলতে, বিপিএলের বয়স খুবই সামান্য। দুই আসর শেষ হবার পর ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ঘটনা এদেশের ক্রিকেটের জন্য অশনি সংকেত।’
আর দুই ক্রিকেটার মোশারফ রুবেল ও মাহবুবুল আলম রবিন দোষী না হলেও তাদের খেলতে দিচ্ছে না বিসিবি। এমন অভিযোগ করেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক। তিনি বলেন, ‘এটা অগ্রহণযোগ্য। বিদেশি ক্রিকেটাররা একই দোষে দোষী হয়েও খেলতে পারছে। আর আমাদের বাংলাদেশি ক্রিকেটার দোষী না হয়েও খেলতে পারছে না! বিসিবি আটকে রেখেছে। কেন? এরা বাংলাদেশি বলে বিসিবি খেলতে দিচ্ছে না? ট্রাইব্যুনালে পরিষ্কারভাবে তাদের ক্লিন সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে, তারপরও তারা খেলতে পারছে না। এটা লজ্জাকর বিষয়।’
