বোরহান বিশ্বাস
দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। ষষ্ঠবারের মতো এ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ১৯৯৬ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপে নাম লেখায় বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে পতাকা ওড়ে লাল-সবুজের। সারা বিশ্বের কোটি কোটি উত্সুক বাঙালি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সেই আনন্দযজ্ঞে মেতে উঠেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে বাংলাদেশ নিজেই আয়োজক হয়। রাজধানীর বাংলামোটর থেকে মিরপুর ১১ পর্যন্ত সে কী জমকালো আলোকসজ্জা! হোটেল সোনারগাঁওয়ের সামনে স্থাপিত টাইগারের রেপ্লিকা তখন পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত।
২০১৫ সালের একাদশ বিশ্বকাপ শুরুর বেশ আগ থেকেই ক্রীড়ামোদী ও সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে তৈরি হয় নতুন নতুন গান। ফলে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে উত্সবের আমেজ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয়োজনে তৈরি গানে কণ্ঠ দেন বরেণ্য শিল্পীরা। এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও মোবাইল কোম্পানিগুলোও বিশ্বকাপ উপলক্ষে তখন গান করেছিল। এবার একেবারেই তেমনটি লক্ষ করা যাচ্ছে না।
বরাবরের চেয়ে এবারের চিত্র একটু ভিন্ন মনে হচ্ছে। ৩০ মে থেকে ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর শুরু হবে। আর মাত্র ক’দিন বাকি। এখনো উত্সবের তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সবকিছু কেমন যেন ঝিমিয়ে আছে। নানাবিধ কারণে এটি হতে পারে। দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট যে খুব একটা ভালো সেটি জোর গলায় বলা যাবে না। ধর্ষণের ক্রমাগত ঘটনাগুলো যে সচেতন মানুষের মনে বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তা বলাই বাহুল্য। বিশ্বকাপের জার্সি নিয়েও বিতর্ক উঠেছিল। যদিও তা পরে সংশোধন করা হয়।
আপাতদৃষ্টিতে কেবল গণমাধ্যমগুলোকেই সোচ্চার দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে। এর মধ্যে তারা কাউন্ট ডাউনও শুরু করে দিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এমন কোনো কাউন্ট ডাউনের খবর আমরা এ যাবত্ কোথাও দেখিনি। যেমনটা দেখেছিলাম ২০১১ সালের বিশ্বকাপে রাজধানীর কারওয়ানবাজার মোড়ে।
বাংলাদেশে বড় কোনো ক্রীড়া আসরে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা ছড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি। সেখানেও এবার এ পর্যন্ত উত্সবের তেমন কোনো আয়োজন চোখে পড়ছে না। কোনো বাসা-বাড়িতেও বাংলাদেশের পতাকা চোখে পড়ছে না। যদিও ফুটবল বিশ্বকাপের শুরুর অনেক আগ থেকেই বাড়ির ছাদগুলো পছন্দের দলের পতাকায় ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।
যা হোক, সবকিছু ছাপিয়ে ক্রিকেট উন্মাদনায় মেতে উঠবে পুরো জাতি সেই প্রত্যাশাই করছি।
ঢাকা
