স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন অনেক উপজেলা চেয়ারম্যান

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪৯

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের পদ ছাড়ছেন অনেকে। এখন পর্যন্ত ২০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র পদত্যাগ করেছেন। এসব পদত্যাগপত্র জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পৌঁচেছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উপজেলা অধিশাখা) অমিতাভ সরকার ইত্তেফাককে বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা নির্বাচনে অংশ নিতে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন। অনেকগুলো বিভাগে এসেছে, আরও আসছে। পদত্যাগ গ্রহণের  প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারি সুবিধাভোগীরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে তাদের পদত্যাগ করতে হবে। তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই ঘোষণা  করেছেন কোনো জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র দলের মনোনয়ন পাবেন না। যেসব জনপ্রতিনিধির পদত্যাগের কথা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জানা গেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে : সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল মান্নান। তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।

কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। দেলোয়ার হোসেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু। বাবলু গঙ্গাচড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্য। তিনি রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচনে অংশ নিতে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা পরিষদের দু’বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। তিনি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিনে যশোর-৬ কেশবপুর ও যশোর-৩ (সদর) এই দুটি আসন থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আতাউর রহমান আতাও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে ইচ্ছুক বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি পাওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আয়নুল হক পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগ করেছেন মঠবাড়িয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুর রহমান। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি পিরোজপুর-৩  (মঠবাড়িয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।   

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। এজন্য তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান সরকার জাতীয় সংসদের গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। তিনিও পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু। তিনি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে নির্বাচন করতে চান।