দুজনই ডানহাতি—মিল বলতে এতটুকুই। একজন ছিলেন টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের শুরুর দিকের সৈনিক। আরেকজন সর্বশেষ যুক্ত সৈনিকদের একজন। তবে, গতকাল একই কাতারে এসে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই যুগের দুই ওপেনার—এনামুল হক বিজয় ও জাভেদ ওমর বেলিম।
২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের অভিষেক টেস্টেই বুলাওয়েতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন বেলিম। এর মধ্যে সবগুলো উইকেটই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। আর তাতেই ১০০ বছরের ইতিহাসে অভিষেকেই কোন ব্যাটসম্যানের ক্যারি থ্রু দ্য ইনিংসের প্রথম নিদর্শন দেখা গেল।
এনামুল অবশ্য একই রেকর্ডটা করেছেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে। গতকাল সোমবার কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ঢাকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন এই ব্যাটসম্যান।
প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এই রেকর্ডটা অবশ্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নতুন কোন ঘটনা নয়। আর কাকতালীয় ভাবে আগের রেকর্ডটির সাথেও জড়িত ছিল এই খুলনা ও রাজশাহী বিভাগ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ২০১০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। সচরাচর ইনিংস ওপেন না করলেও সেবার কেন যেন ওপেন করতে নেমে যান খুলনার তাপস ঘোষ।
আর সেই কাজটাও বেশ স্মরণীয় করে রাখেন বাম হাতি এই ব্যাটসম্যান। ২৯৫ রানের দলীয় স্কোরে তার অবদান ছিল ১৫০। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে অপরাজিত ছিলেন ১৫০ রানে। কিন্তু তারপরও রাজশাহীর কাছে ইনিংস ও ২৮ রানের ব্যবধানে হারে খুলনা।
এবারও খুলনা দলে আছেন সেই তাপস। গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে সর্বশেষ প্রথম শ্রেণীর ম্যাচটিও খেলেছেন এই রাজশাহীর বিপক্ষেই। গতকাল তার দলেরই আরেকজন করলেন সেই একই রেকর্ড।
দ্বিতীয় ইনিংসে বিজয় ২৯০ বল খেলে করেছে ১১৯ রান। ইনিংসে ছিল পাঁচটি ছক্কা ও নয়টি চার। আর খুলনার ইনিংসে এক বিজয় বাদ দিলে আর কোন ব্যাটসম্যানই বলার মত কোন ইনিংস খেলতে পারেননি। অল আউট হয়েছে মাত্র ২৩২ রানে।
জবাবে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হবার আগ পর্যন্ত মাত্র এক উইকেট হারিয়েই ৯৬ রান করেছে ঢাকা বিভাগ। আগের দিনেই শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলা দলটির শেষ রাউন্ডে জয় নিশ্চিত করতে নয় উইকেট হাতে নিয়ে দরকার আর মাত্র ১২৭ রান।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠেও ছিল ব্যক্তিগত কিছু পারফরম্যান্স। দ্বিতীয় ইনিংসে চট্টগ্রামের মুমিনুল হক সৌরভ করেছেন ১৬৮ রান। এর সুবাদে চট্টগ্রাম নয় উইকেটে ৪১৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। সিলেটের অফ স্পিনার সাদিকুর রহমান নিয়েছেন সাতটি উইকেট। জবাবে এক উইকেটে ৬৪ রান করেছে সিলেট।
এদিকে শিরোপা স্বপ্ন ধূলিসাত্ হবার পর যেন খেলার হেই হারিয়ে ফেললো রাজশাহী বিভাগ। ঢাকা মেট্রোর দ্বিতীয় ৩৫২ রানের পাহাড়ের সামনে মাত্র ১২০ রান তুলতেই ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলেছে মুশফিকুর রহিমের দল। চার উইকেট হাতে নিয়ে এখনও তারা পিছিয়ে আছে ১৫১ রানে।
ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে আগের রাউন্ডের মত এবারও সেঞ্চুরি পেয়েছেন রংপুরের তানভির হায়দার। নয় চার ও এক ছক্কায় তিনি ১২১ রানে অপরাজিত ছিলেন। আর আগের দিনে ধীমান ঘোষের ১৪৯ রানের ইনিংস মিলিয়ে দলটি প্রথম ইনিংসে নয় উইকেটে ৫৪৩ রান করেছে। জবাবে তৃতীয় দিন শেষে দুই উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান করেছে বরিশাল বিভাগ।
