কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

দক্ষতা বাড়াতে মাঠকর্মে

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:০২
‘নৃবিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয়ই মাঠকর্মভিত্তিক। নৃবিজ্ঞান হলো মানুষকে কেন্দ্র করে, যার গবেষণার ক্ষেত্র হচ্ছে মাঠকর্ম। নৃবিজ্ঞান অধ্যয়নে মাঠকর্ম অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও অধিকতর উল্লেখযোগ্য।’ নৃবিজ্ঞানে মাঠকর্ম বা ফিল্ডওয়ার্কের গুরুত্ব সম্পর্কে বলছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো. আইনুল হক। মাঠকর্ম একাডেমিক শিক্ষার হাতে কলমে রূপ দিয়ে থাকে। মাঠকর্ম আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় যোগ করে এক বড় মাত্রা, এটি একাডেমিক শিক্ষা তথা তাত্ত্বিক শিক্ষার প্রায়োগিক ক্ষেত্র। আর নৃবিজ্ঞানে মাঠকর্মের গুরুত্ব ঢের বেশি। এ মাসেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় ব্যাচ ৯ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত একটি মাঠকর্ম সম্পাদন করেছে। ৪র্থ সেমিস্টারের একটি কোর্স ‘ফিল্ডওয়ার্ক এন্ড রিপোর্ট রাইটিং’-এর জন্যই এ মাঠকর্ম সম্পাদন। ব্যাচের ২৮ জন শিক্ষার্থীকে ৭টি গ্রুপে ভাগ করা হয়। গ্রুপসমূহের সুপারভাইজার ছিলেন বিভাগের ৭ জন শিক্ষক। ৭টি গ্রুপের মাঠকর্মের ইস্যু বা বিষয় ছিল আলাদা। জানার ও আগ্রহের দিক দিয়ে প্রতিটি ইস্যু ছিল স্বতন্ত্র। যেমন-একটি গ্রুপের ইস্যু ছিল ‘পাহাড়ে বাঙালি অভিবাসীদের সাথে চাকমা জনগোষ্ঠীর সম্পর্কের সরূপ উন্মোচন’। কথা হলো এ গ্রুপের সদস্য রায়হান আহমেদের সাথে, প্রশ্ন ছিল মাঠকর্মে গিয়ে কি শিখলেন? কি অভিজ্ঞতা হলো? তিনি বললেন, ‘মাঠকর্মে গিয়ে শেখার বিষয়টি বলে শেষ করা যাবে না। তবে অভিজ্ঞতা নানামুখী।’ নানামুখী কি রকম? ‘এই যে, মাঠকর্মে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর এক রকম ধারণা থাকে। যাকে আমরা হাইপোথিসিস বলি আর মাঠকর্ম সম্পাদনের সময় দেখা গেল অন্য রকম।’ জানা গেল, এটি ছিল একটি পরীক্ষামূলক মাঠকর্ম। নৃবিজ্ঞানের মাঠকর্ম হয় অনেক সময়ব্যাপী, বছরের পর বছর। মাঠকর্ম সম্পাদন ছাড়া নৃবিজ্ঞানী হওয়া যায় না তা তো বলেছেন নৃবিজ্ঞানের বড় বড় পণ্ডিতরা। মাঠকর্মে কি রকম অভিজ্ঞতা হবে। কিভাবে মাঠকর্ম সম্পাদন করতে হবে। মোট কথা মাঠকর্মের জন্য দু’চার দিনের প্রশিক্ষণ এটি, মাঠের সাথে পরিচিতি পর্ব। ‘মাঠকর্ম নৃবিজ্ঞানের প্রাণ। এর সাহায্যে বিভিন্ন সমাজ, মানবগোষ্ঠী সম্পর্কে জানা যায়। মানুষের যাবতীয় বিষয়াদি সম্পর্কে জানতে হলে মাঠকর্মের প্রয়োজন।’ বলছিলেন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মহাসিন। মানুষ কি করে? কেন করে? কিভাবে করে? এই করার সাথে অন্যের সম্পর্ক কি? কোন সমস্যার সমাধান কিভাবে আসবে এবং তার স্থায়ীত্ব কতটুকু হবে? মানুষের বিকাশের ক্রমধারা, সমাজের বিকাশের ক্রমধারা। এই হলো নৃবিজ্ঞানের পড়াশুনা, যার জন্য মাঠকর্ম সম্পাদন করতেই হবে। বিভিন্ন মানব সম্মন্ধীয় বিষয় জানার ও গবেষণার মাধ্যম হলো মাঠকর্ম। মাঠকর্ম শিক্ষার্থীর আত্মিক প্রশান্তি ঘটায়।