এখনকার আধুনিক দৈনন্দিন জীবনযাপনের অন্যতম প্রধান একটি উপকরণে পরিণত হয়েছে স্মার্টফোন। তবে স্মার্টফোন এখন আর কেবল নিছক কথা বলার কোনো যন্ত্র নয়। বরং বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার একে করে তুলেছে নানা কাজের কাজি। স্মার্টফোনের সাথে আবার বিভিন্ন ধরনের গ্যাজেট ব্যবহার করে এর কর্মক্ষেত্র আরও প্রসারিত করা হচ্ছে। এর মধ্যেই চিকিত্সায় স্মার্টফোনের ব্যবহার শুরু হয়েছে। আরও এমন অনেক ক্ষেত্রেই স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত রয়েছেন গবেষকরা। এবারে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিশেষ এক ধরনের লেন্স ব্যবহার করে স্মার্টফোনকে সহজেই ব্যবহারযোগ্য এবং বহনযোগ্য একটি মাইক্রোস্কোপ বা অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পরিণত করা যাবে। ছোট্ট এবং নমনীয় এই লেন্স বর্তমানে কোনো বস্তুকে ১৫গুণ বিবর্ধিত করে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে গবেষকরা এর উন্নততর সংস্করণ তৈরিতে নিয়োজিত রয়েছেন, যা কোনো বস্তুকে দেড়শ গুণ পর্যন্ত বিবর্ধন করে দেখাতে সক্ষম হবে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী থমাস লারসন তৈরি করেছেন এই লেন্সটি। এই লেন্সের একটি বড় সুবিধা হলো একে কোনো ধরনের আঠা বা অন্য কোনো উপাদান ছাড়াই যুক্ত করা যাবে স্মার্টফোনের ক্যামেরার সাথে। এই লেন্স প্রসঙ্গে লারসন বলেন, ‘একটি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের বৈচিত্র্যময় সব ব্যবহার রয়েছে। একে অনেক বেশি সুলভ এবং বহনযোগ্য করে তোলা হলে এর ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে। বিশেষ করে এর মাধ্যমে ছবি তোলার সুযোগ থাকলে তা এর ব্যবহারকে আরও বেশি কার্যকরী করে তুলবে।’ বর্তমানে যেসব অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ছবি তোলার সুবিধা রয়েছে সেগুলো একদিকে যেমন দামী, তেমনি এগুলো খুব সহজে বহনও করা যায় না সব জায়গায়। লারসন অলিম্পিয়া নামক নিজের একটি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন, যেখানে এর আগে তিনি মাইক্রো ফোন লেন্স তৈরি করেছেন। বর্তমানে স্মার্টফোনকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পরিণত করার লেন্স নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। আকৃতির দিক থেকে এই লেন্স একটি সাধারণ বোতামের সমান এবং এর জন্য নিজস্ব কেসিংও রয়েছে। একে এর কেসিং থেকে বের করে সরাসরি ক্যামেরার সাথে লাগানো যায় এবং এরপর এটি স্মার্টফোনের ক্যামেরা মোডেই কাজ করে। লারসন জানিয়েছেন, বছরখানেকের মধ্যেই ১৫০ গুণ বিবর্ধনে সক্ষম লেন্স তৈরি করতে পারবে তার প্রতিষ্ঠান। আর তা সম্ভব হলে অণুবীক্ষণ যন্ত্রও ফিরবে মানুষের হাতে হাতে।
