ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের গেট খুলে দেয়ায় গতকাল মঙ্গলবার হঠাত্ করেই ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে ৩ হাজার ৬ কিউসেক পানি প্রবাহিত হয়। চলতি বছরে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পানি প্রবাহের এটিই ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গজলডোবা ব্যারেজের গেট খুলে দিয়েছে। এর ফলে আমরা ৩ হাজার ৬ কিউসেক পানি পেয়েছি। বোর্ডের নীলফামারীর ডালিয়া জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে রংপুর, নীলফামারী ও দিনাজপুরের ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য পানির প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৩ হাজার ৬শ’ কিউসেক। গতকাল যে পানি পাওয়া গেছে তা দিয়েও চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না। এলাকার কৃষকরা ১ লাখ ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করে বিপাকে রয়েছেন।
বোর্ড সূত্র জানায়, তিস্তা ব্যারেজের ১০০ কিলোমিটার উজানে গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করায় তিস্তায় পানি প্রবাহ একেবারেই কমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা ব্যারেজে পানি থাকে না। আবার বর্ষাকালে প্রবল পানির তোড়ে ব্যারেজ ও আশপাশের অঞ্চল তীব্র ভাঙ্গনের কবলে পড়ে।
তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প সূত্র জানায়, সেচ কার্যক্রম চালু রাখা ও নদীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ থাকা উচিত ২০ হাজার কিউসেক। কিন্তু ডিসেম্বর মাসের পর থেকে তিস্তায় পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। আবার বর্ষাকালে ভারত গজলডোবা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেয়। তখন তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট ২৪ ঘন্টা খুলে রেখেও পানি সরানো সম্ভব হয় না। এই অতিরিক্ত পানি অপসারণের জন্য প্রকল্পের উত্তরে ৬১০ মিটার একটি খাল নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৮ সালে বন্যায় এই খাল ধ্বংস হয়ে অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
