ভারতীয় জনতা দলের (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসবেন এটা ভেবেই আতঙ্কে ভুগছেন ব্রিটেনে ভারতীয় বংশোদভুত শিক্ষাবিদরা। এসব শিক্ষাবিদরা ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায় লেখা এক খোলা চিঠিতে তাদের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছেন। এর আগে নোবেল বিজয়ী সালমান রুশদীসহ বিভিন্ন শিল্পীরাও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
ব্রিটেনের বিশ্বখ্যাত লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্স, অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, সোয়াস এবং কিং কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭৫ জন শিক্ষাবিদ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। বিশিষ্ট অধ্যাপক চেতন ভাট এবং গৌতম আপ্পার নেতৃত্বে স্বাক্ষর করা চিঠিতে তারা বলেন, মোদীর আদর্শ ভয়ঙ্কর এবং তিনি ক্ষমতায় আসলে সেটা ভয়ঙ্করই হবে। চিঠিতে আশঙ্কা করা হয়, মোদীর বিজয় হবে নৈতিকতার পরাজয় বিশেষ করে নারী এবং প্রতিবেশি রাষ্ট্রের জন্য সেটা খুবই খারাপ হবে। মোদী আরএসএস ও সংঘ পরিবারের মতো হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে তাদের সহিংসতা উস্কে দেয়ার ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সমপ্রতি এই গোষ্ঠীগুলোর কয়েকটির বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব গোষ্ঠী মোদীকে ব্যাপকভাব সমর্থন দিয়ে থাকে। তারা চিঠিতে লিখেছেন, মোদী ক্ষমতায় আসলে ভারতের গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটবে। ২০০২ সালের গুজরাটে ভয়াবহ সামপ্রদায়িক দাঙ্গার বিষয়টিও তারা স্মরণ করেন। এই দাঙ্গায় মোদীর ঘনিষ্ঠজনরা জড়িত। গুজরাটের হাইকোর্টে এই মামলা বিচারাধীন। এতে মোদীও দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন। অনেকের সাক্ষ্যেও মোদীর জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি এরজন্য কখনো ক্ষমা চাননি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষাবিদরা লিখেছেন, মোদীর গুজরাট মডেল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অথচ গুজরাটে মোদীর একনায়কতান্ত্রিক শাসনে ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যেরই ক্ষতি হয়েছে। তার উন্নয়ন মডেলের মাধ্যমে ধনীরা এবং প্রভাবশালীরাই উপকৃত হয়েছেন। কোনো গরীব এই মডেলের সুফল তো পাননি, বরং আরো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। শিক্ষাবিদদের এই দলে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নন্দিনী গুপ্ত ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়তী চক্রবর্তীসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা আছেন। সমপ্রতি ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত এক চিঠিতে ব্রিটেনে ভারতীয় বংশোদভুত আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, নোবেল বিজয়ী, পার্লামেন্ট সদস্য, চলচ্চিত্র শিল্পী এবং চিত্রকররা একই ইস্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
