এপ্রিল মাস থেকে মধু সংগ্রহ মৌসুম শুরু হলেও মধু আহরণের পদ্ধতিতে মৌয়ালদের লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। পরিবর্তন হয়নি মধু সংগ্রহের পদ্ধতি। সনাতনী পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ বাতিলে এখনো সরকারি কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যার কারণে মৌচাক নষ্টসহ আগুনে সুন্দরবন ভস্মীভূত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সুন্দরবনের মধু সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।ওষুধ এবং খাদ্যসহ নানা কাজে এর প্রয়োজন। এ খাঁটি মধু আহরণে যারা জড়িত থাকেন তাদের জীবন ও জীবিকা মধুময় নয়। অধিকাংশ মৌয়ালদের জীবন ও জীবিকা আজও তিক্ততায় ভরা। সুন্দরবনকে ঘিরে প্রায় ১০-১৫ হাজার মধু সংগ্রহকারীর ভাগ্য আজও প্রকৃতি নির্ভর। জীবনবাজি রেখে মৌয়ালরা মধু সংগ্রহ করলেও মধু আহরণের পদ্ধতিতে লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। দীর্ঘদিনে মৌয়ালদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন নেই।
ঘন সবুজ সুন্দরবনের প্রান্তসীমায় বসবাসকারী মৌয়ালদের জীবিকার উত্স সুন্দরবন। লোকালয়ে অন্য কোন পেশায় জড়িত হতে না পেরে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কিছুটা শারীরিকভাবে শক্ত সামর্থ্যরাই বেছে নেন মৌয়ালী পেশা। সুন্দরবন মৌয়ালদের জীবিকার উত্স হলেও জীবনের নিরাপত্তা কেড়ে নেয় বনের বাঘ। শুধু বাঘই নয়, বনদস্যুরাও মৌয়ালদের জন্য হুমকি স্বরূপ। বনদস্যুদের টাকা না দিলে নির্যাতন বা অপহরণের শিকার হতে হয়। বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে মৌয়ালরা সাধারণত ২১ জনের একটি দল তৈরি করে তিনটি ডিঙ্গি নৌকা এবং একটি বড় নৌকা নিয়ে বনে যায়। ২১ জনের বহরে খরচ হয় প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। এ টাকা মৌয়ালরা দাদন নিয়ে থাকেন দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। ফলে মৌয়ালদের উপর্জিত অর্থের প্রায় পুরোটাই তুলে দিতে হয় মহাজনদের হাতে। বাজারে এক মণ মধু ৭ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও মহাজনদের কাছে তা বিক্রি করতে হয় ২ থেকে আড়া্ই হাজার টাকা কমে।
বনদস্যুরা মৌয়ালদের কাছ থেকে ২৫-৩০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছে। চলতি মৌসুমে সুন্দরবন থেকে ৩ হাজার মণ মধু ও ৮শ’ মণ মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পহেলা এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে মধু আহরণের কাজ। বড় ধরনের কোন বিপর্যয় না হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মধু আহরণের আশা করছে বনবিভাগ।
