ব্রাদার্স ১
০ শেখ রাসেল
আগের ম্যাচে ড্র, এবার হার নিয়ে ঘরে ফিরলো গত মৌসুমে ট্রেবল জয়ী শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। আবার হারলো ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাছে। নতুন কোচ এনে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের কর্মকর্তারা দলে পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। মনে করেছিলেন কোচ বদল করলে ভালো কিছু আসতে পারে। সেই আশায় ট্রেবল জেতানো কোচ মারুফুল হককে চাকরিচ্যুত করেছিল ক্লাবটি। মন্টেনেগ্রো থেকে নতুন কোচ দ্রাগান জুকোনোভিচের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল। কিন্তু তিনি দুই ম্যাচে হতাশা ছাড়া ভালো কিছু দিতে পারলেন না।
শেখ রাসেল আগের ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর সাথে ড্র করেছিল। এরপর কাল ব্রাদার্সের কাছে হেরে তিন পয়েন্ট খুইয়েছে। দুই ম্যাচে ৫ পয়েন্ট হারালো পেশাদার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শেষ রাসেল। ব্রাদার্স জিতলো ১-০ গোলে। জয়টি এনে দেন নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার কেস্তার আকন। আগের মৌসুমে এই স্ট্রাইকার শেখ জামালের জার্সি গায়ে ১০ গোল করেছিলেন।
নিটল টাটা ফুটবল লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে তিন ম্যাচের মধ্যে ব্রাদার্স দুটি বড় দলকে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট পেয়েছে। প্রথম ম্যাচে আবাহনীর বিরুদ্ধে জয়, কাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তৃতীয় ম্যাচে শেখ রাসেলকে বধ করলো ব্রাদার্স। ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে ব্রাদার্স গোল করে। এই একটি গোল শোধে হাজারো চেষ্টা করেও শেখ রাসেল ব্যর্থ হয়েছে। এমন না যে, শেখ রাসেল দারুণ ফুটবল খেলেছে।
দলের কোচ দ্রাগান জুকোনোভিচ দারুণ হতাশ। ঢাকায় এসে দায়িত্ব নিয়ে যে পজিটিভ কথা বলেছিলেন, এখন সেটা কমে গিয়ে হতাশা দানা বাঁধতে শুরু করেছে। সাদা চামড়ার এই কোচের কণ্ঠে হতাশা,‘একটা ভালো দল গড়া হয়নি। স্ট্রাইকার নেই দলে। আমি কিভাবে খেলাবো। একজন স্ট্রাইকার মিঠুন। তাকে দিয়েও তো চেষ্টা করে কিছু হলো না। প্যাসলকেল মিডফিল্ডার, শাকিল মিডফিল্ডার, আমি তো দলে স্ট্রাইকার দেখছি না।’
ক’দিন পরে শেখ রাসেল এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপ ফুটবলে খেলতে শ্রীলংকা যাবে। এমন দুর্বল দল নিয়ে কিভাবে আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলবে এমন প্রশ্নে হতাশা বেরিয়ে এলো কোচের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট কাপ ফুটবলে মাত্র দুইজন বিদেশি ফুটবলার খেলতে পারবেন। দেশি ফুটবলাররাই ভরসা। যে পরিস্থিতি দেখছি তাতে আমি কি করবো, কিভাবে দল গোছাবো সেটাই ভাবছি।’
গোলটা শোধ করার একটা দারুণ সুযোগ পেয়েছিল শেখ রাসেল। দ্বিতীয়ার্ধে আনোয়ারের ক্রসের বল মিঠুন পা লাগাতে পারলেই গোল হতো। পর পর চারটা কর্ণার পেয়েছিল শেখ রাসেল। কিন্তু সেখান থেকেও গোল আদায় করতে পারেনি দলটি।
ব্রাদার্স এদিন আরো বড় ব্যবধানে জেতার সুযোগ নিতে পারতো। বল এগিয়ে দেয়ার জন্য গোলকিপার বিপ্লব গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তার আগেই বল চলে যায় জুয়েল রানার কাছে। তিনি গোলপোস্ট লক্ষ্য করে দূর থেকে শট নিলেন। আর বল গেলো কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে। এমন দৃশ্য হাসির খোরাক জুগিয়েছে দর্শকদের।
ব্রাদার্স লিগের প্রথম পর্বেও ১-০ গোলে শেখ রাসেলকে হারিয়েছিল। রাসেলের ম্যাচ দেখা আছে ব্রাদার্সের ভারতীয় কোচ সৈয়দ নইম উদ্দিনের। কাল খেলা শেষে এই বর্ষীয়ান কোচ বলছিলেন, ‘বর্তমান কোচের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, মারুফ ভালো কোচ এবং অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। ব্রাদার্সের এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে কোনো পরিবর্তন হয়নি ঠিকই, তবে তারা একটু করে এগিয়ে আসছে। প্রথম পর্বে ব্রাদার্স ৯ ম্যাচের মধ্যে জিতেছিল দুটি। আর দ্বিতীয় পর্বে তিনটির মধ্যে জিতেছে দুটি ম্যাচ। সব মিলিয়ে ব্রাদার্সের ১২ খেলায় ১৬ পয়েন্ট। আর সমান ম্যাচ শেষে শেখ রাসেলের পয়েন্ট ১৬।
আজকের খেলা
শেখ জামাল ও সকার ক্লাব, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, ৫টা ৩০।
