ঢাকায় অপহূত, লাশ লক্ষ্মীপুরে

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২০
ঢাকার উত্তরা থেকে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে অপহূত হন যুবদল নেতা সামছুল ইসলাম সোলায়মান (৪০)। আর অপহরণের ৩০ ঘন্টা পর গতকাল শনিবার সকালে গুলিবিদ্ধ সোলায়মানের লাশ উদ্ধার হল লক্ষ্মীপুর সদর থানার সৈয়দপুর স্লুইসগেট এলাকা থেকে। মাথাসহ তার শরীরে ছিল ৫টি গুলির চিহ্ন। সোলায়মান লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। কিন্তু কারা তাকে অপহরণ করে হত্যা করেছে এ ব্যাপারে পুলিশ ও নিহতের পরিবার থেকে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সোলায়মান লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। তবে নিহতের পরিবার এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার জয়নাল মার্কেটের সামনে কোলের ঘুমন্ত শিশু ( সাড়ে তিন বছরের দিহান) সন্তানকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে দুর্বৃত্তরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে সোলায়মানকে অস্ত্রের মুখে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোলায়মানের স্ত্রী সালমা ইসলাম রাতেই উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করেন। লক্ষ্মীপুর সদর থানার দাসেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, গতকাল সকালে এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানতে পারেন সোলায়মানের গুলিবিদ্ধ লাশ সৈয়দপুর স্লুুুইসগেট এলাকায় রাস্তার পাশে পড়ে আছে। এরপর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সোলায়ামানের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর থানার চরশাহী ইউনিয়নের রামপুর। পিতা মৃত সাইদুর রহমান। দুই ভাই, পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। তিন সন্তানের জনক সোলায়মান ১৯৯৭ সালে লক্ষ্মীপুরের কফিলউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের জিএস ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকায় গার্মেন্টেসের এক্সেসরিজের ব্যবসা করতেন। ঘটনা সম্পর্কে লক্ষ্মীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) ইকবাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিহত সোলায়মানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। কিন্তু কী ধরনের মামলা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার চেয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার জিল্লুর রহমানই ভাল বলতে পারবেন। এরপর লক্ষ্মীপুর সদর থানার সেকেন্ড অফিসার জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সোলায়মান পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সোলায়মান- জিসান বাহিনীর প্রধান। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে সুধারাম থানায় ৩টি, বেগমগঞ্জ থানায় ১টি ও লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ১টি মামলা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এলাকার আধিপত্য নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। তার প্রতিপক্ষ গ্রুপের দিদার বাহিনীর প্রধান দিদার দুই মাস আগে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। কারা তাকে হত্যা করতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারা তাকে অপহরণ ও গুলি করে হত্যা করেছে- এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোন তথ্য নেই। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ হত্যার ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়েছে কীনা -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা হয়েছে। একই ঘটনায় দুইটি মামলা হবার সুযোগ নেই। ময়না তদন্ত শেষে দুপুরের দিকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি নিশারুল আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, থানায় অপরহণ মামলা হয়েছে। কারা তাকে অপহরণ করে হত্যা করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহত সোলায়মানের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, তার স্বামীর বিরুদ্ধে যদি মামলা থেকে থাকে -সবগুলোই রাজনৈতিক মামলা। চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তিনি কখনও জড়িত ছিলেন না। অধিকাংশ সময় তিনি ব্যবসার কাজে বিদেশ থাকতেন। র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দিদারের সঙ্গে সোলায়মানের বিরোধ প্রসঙ্গে সালমা ইসলাম বলেন, দিদার ছিল সন্ত্রাসী। তার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোলায়মান বরাবরই প্রতিবাদ করতেন। এ কারণে ৭/৮ মাস আগে দিদার তাদের গ্রামের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছিল। সালমা বেগম বলেন, কার কাছে বিচার চাইবো। আমার স্বামী যুবদল করতো এটাই ছিল তার অপরাধ। বিচারের ভার আল্লাহর কাছেই ছেড়ে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, গতকাল সকালে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুর পৌঁছান। বিকালে তার স্বামীর লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।