না ফেরার দেশে চলে গেলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের প্রিয় ছাত্র ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও লোকসাহিত্য গবেষক এম এ কাইয়ুম (৮০)। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিশোরগঞ্জের এ কৃতীপুরুষ (ইন্নালিল্লাহে.... রাজিউন)। তিনি ১ ছেলে, ৪ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা কিশোরগঞ্জের শহীদী মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে শোলাকিয়ার বাগে জান্নাত গোরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রচারবিমুখ এই কীর্তিমানের মৃত্যুর খবরে কিশোরগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। এম এ কাইয়ুমের একমাত্র ছেলে বাজিতপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক এম এ কব্বী পারভেজ জানান, কয়েকদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ওইদিন রাত ৮টার দিকে ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন কোর্ট রোডের বাসিন্দা চিত্রশিল্পী এম এ কাইয়ুম শিক্ষাজীবন শেষে তত্কালীন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে আর্টিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দেশে ফিরতে চাইলেও তাঁকে পশ্চিম পাকিস্তানে আটকে রাখা হয়। এ অবস্থায় করাচী শহরে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গোপনে জনমত গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর, রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘরের সিনিয়র ডিসপ্লে অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরের সামনে জয়নুল আবেদীনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘সংগ্রাম’-কে ভাস্কর্যে রূপান্তর করেন শিল্পী এম এ কাইয়ুম। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত অসংখ্য বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকেছেন এই গুণী শিল্পী। শিল্পকলা ও লোকসাহিত্য গবেষণা নিয়ে তার উল্লেখযোগ্য বইগুলো হচ্ছে-‘লোকচিত্রের রূপ বৈচিত্র্য’, ‘কিশোরগঞ্জের লোকজ ঐতিহ্য ও চারুকলা’, ‘রেখাচিত্রে বাঙালি মনীষা’, ‘আদি শিল্প:চিরন্তন সংস্কৃতি’ ইত্যাদি।
গুণী এই শিল্পীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদ এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজল প্রমুখ গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
