জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবিকে একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা করেছে ভারত। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশে এই দলটি অনেক আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের দায়ে শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইসহ এর একাধিক নেতার মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নোটিশকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা পিটিআই গতকাল শুক্রবার বলেছে, এই সংগঠনটি সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংঘটিত এবং উত্সাহিত করেছে। তাছাড়া ভারতের যুবকদের উগ্রপন্থায় দীক্ষিত করা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে নিয়োগ করার কাজেও জড়িত ছিল। এতে বলা হয়, এ কারণে জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ অথবা জামাতুল মুজাহিদীন ইন্ডিয়া বা জামাতুল মুজাহিদীন হিন্দুস্তান নামের সব ধরনের সংগঠনকে বেআইনী কার্যক্রম (প্রতিরোধ) আইন ১৯৬৭ তে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলার ঘটনার সঙ্গে জেএমবি জড়িত বলে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে বর্ধমানের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে জেএমবির সংশ্লিষ্টতা ছিল উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ১৯৯৮ সালে ‘জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ বা জেএমজেবির জন্ম হয়। কিন্তু প্রথম কয়েক বছর এ সংগঠন সম্পর্কে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের তেমন কোনো ধারণা ছিল না । পরিস্থিতি বদলায় ২০০১ সালের পর থেকে। ২০০৪ সালের দিকে সংগঠনটির নাম বদলে হয় জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে সারা বাংলাদেশে একযোগে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রথমে সবার নজর কাড়ে জেএমবি। ২০০৫ সালের পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক অভিযানের মুখে জেএমবি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। দুই বছর পর ২০০৭ সালে সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম এবং শায়খ আব্দুর রহমানের ফাঁসি হয়।-বিবিসি
