টিকফার প্রথম বৈঠক আজ

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২০
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তি (টিকফা) পরিষদের প্রথম সভা আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (ইউএসটিআর) পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল ডিলানি এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ টিকফা ফোরামের উদ্বোধনী বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করবেন। জানা গেছে, গত বছর ২৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। টিকফা দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আলোচনার প্রাথমিক ফোরাম। এ ফোরামের মাধ্যমে পরিবেশ, মেধাস্বত্ব রক্ষা, শ্রমিক অধিকার ও নিরাপত্তা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। জানা গেছে, বৈঠকের মাধ্যমে টিকফা শ্রম বিষয়ক কমিটি ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ক টিকফা কমিটি গঠিত হবে। যেখানে যৌথভাবে আন্তঃসংস্থা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞ দলের সাথে কাজ করা হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সাথে সচিবালয়ে এক বৈঠকশেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সোমবার অনুষ্ঠেয় টিকফার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। শুল্ক ও বাণিজ্য সুবিধা পাওয়া এবং জিএসপি ফিরে পাওয়া গেলেই টিকফা সার্থক হবে। প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকে পোশাক ও অন্যান্য শিল্পে শুল্কমুক্ত সুবিধার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি ও রপ্তানিতে বিশেষ সুবিধা দিলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হচ্ছে না। ফলে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, তারা আশাবাদী টিকফার বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিরাজমান অনেক সমস্যার সমাধান হবে। এ বৈঠকের পর জিএসপি (অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা) ফিরে পাওয়া সহজ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের জায়গাগুলো স্পষ্ট না হলেও দেশটি তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা, ট্রেড ইউনিয়নসহ আইনে দেয়া অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করার বিষয় আলোচনায় তুলতে পারে বলে জানা গেছে। এমনকি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও কথা উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৬শ’ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। যা ২০০৯ এর তুলনায় ৫০ ভাগ বেশি। ধীরে ধীরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানিও বাড়ছে। দেশটি আশা করছে তাদের রফতানির পরিমাণ অচিরেই ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।