দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে অবহেলিত বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ১২১ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবানের উদ্যোগ নিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধদপ্তর। রংপুর বিভাগের ৪টি জেলার ৯টি উপজেলার ৮৬টি বিলুপ্ত ছিটমহল এবং রংপুর ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগের ৯টি জেলার ৪০টি উপজেলায় চরাঞ্চলে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবাদি পশু-পাখি পালনের মাধ্যমে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা হবে। ফলে এর মধ্যেমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও দারিদ্র্য হ্রাস করার প্রচেষ্টা থাকবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছর শুরু করে ২০২১ সালের মধ্যে কয়েকটি ধাপে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সীমানার অভ্যন্তরে বিলুপ্ত ছিটমহলের অধিবাসীরা আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অর্থনৈতিক অবস্থান দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় দুর্বল। বিলুপ্ত হওয়া সিটমহলগুলোতে আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপেও এমন চিত্র উঠে এসেছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত বিলুপ্ত ছিটমহল ও চরাঞ্চলের মানুষদের আর্থ-সামাজিকভাবে উন্নয়নের জন্য এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। তাছাড়া চরাঞ্চলে ভৌগোলিক কারণে সরকারি নানা সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হয় না। সে সব অঞ্চলে গবাদি পশু পালন করা তুলনামূলক সুবিধাজন। বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। প্রাণিসম্পদ নগদ আয়, পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদার উত্স। বাংলাদেশের দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে নারীর দারিদ্র্য দূরীকরণ ও টেকসই জীবনমান উন্নয়নে প্রাণিসম্পদের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে হাঁস-মুরগি পালান, গাভী পালন, গরু হূষ্টপুষ্টকরণ, ছাগল ও ভেড়ার ক্ষুদ্র খামার স্থাপন করা হবে। যার মাধ্যমে ডিম, দুধ ও মাংসের উত্পাদনও বৃদ্ধি পাবে। ফলে চরাঞ্চলে ও বিলুপ্ত ছিটমহলে দরিদ্র্য পরিবারগুলোর পুষ্টি ও জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে।
মূলত দীর্ঘদিনের সীমানা জটিলতায় এসব অঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৫ সালের ১ আগস্ট ৬৮ বছরের বঞ্চনার ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটে। বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত ছিটমহলের বাসিন্দারা এদিন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়। লালমনিরহাটে ৫৯টি, পঞ্চগড়ে ৩৬টি, কুড়িগ্রামে ১২টি, নীলফামারীতে ৪টিসহ মোট ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের মূল সীমানার সাথে যুক্ত হয়। এ ছিটমহলগুলোর জমির পরিমাণ ১৭ হাজার ১৫৮ দশমিক ১৩ একর। দীর্ঘ ৬৮টি বছর ধরে অবহেলিত ছিটমহলবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রাণিসম্পদের লাগসই প্রযুক্তি বিষয়ে সচেতন করে তুলবে বলে জানানো হয়।
