ডাটাবেসে ঢুকছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা

আপডেট : ২৫ মে ২০১৯, ০০:৪১

আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি ডাটাবেস বা তথ্যভান্ডার তৈরি করা হচ্ছে। ওয়ার্ড পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত যারা আছেন তাদের প্রত্যেকের যাবতীয় তথ্যের পাশাপাশি মা, বাবা, ভাই, বোন, স্বামী বা স্ত্রী এবং নিকট আত্মীয়রা কে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত আছেন বা ছিলেন সেসব তথ্য ডাটাবেসে থাকবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী এই তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই কর্মকাণ্ডকে আরো বেগবান করার লক্ষ্যে আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরের পর দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের সকল শাখার দপ্তর সম্পাদকদের নিয়ে ঢাকায় একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় কর্মশালায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জানান, ২০০৯ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগে যারা যোগদান করেছেন তাদের একটি তালিকাও করা হচ্ছে। কারণ ২০০৯ সাল থেকে যারা আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন তারাই দলের বদনাম ছড়াচ্ছেন বলে দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন। এজন্য আলাদাভাবে তাদের সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তালিকায় তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা হবে, তারা কোন দল থেকে এসেছেন, আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর তারা কী কী সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। তারা আদর্শিক কারণে যোগদান করেছেন নাকি অন্য কোনো সুবিধা বা মতলব হাসিলের জন্য দলে এসেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে এবং এগুলোও ডাটাবেসে ঢুকবে।

ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমন্ডির দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় এসেছে। সেখানে বসানো হয়েছে সিসিটিভি। কার্যালয়ে কী হচ্ছে তা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকি করতে পারছেন। মাঝে মাঝেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংযোগ স্থাপন করেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। পর্যায়ক্রমে সারাদেশের আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোকেও এ রকম ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সুবিধার আওতায় আনা হবে। দলীয় সূত্র জানায়, দলীয় নেতাকর্মীদের তথ্যসমৃদ্ধ ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরির ঘোষণা দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের পরপরই দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তিনি জানান, দেশের সব নেতাকর্মীকে একটি অ্যাপের আওতায় আনতে এই ডাটাবেস তৈরি হবে। আমি যখন অবসরে যাব, টুঙ্গিপাড়া বসে এ ডাটাবেস থেকে সবার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারব। ডাটাবেস তৈরির কাজে সম্পৃক্ত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ সালে অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলনের পরপরই এর কাজ শুরু হয়। মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন, পৌর, ওয়ার্ড কমিটির সদস্যদের নাম-ঠিকানাসহ এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি কমিউনিটি পোর্টাল নিবন্ধন ফরম দ্রুত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জমা দিতে ওই সময় জেলা নেতাদের চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে এ কাজের এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। সবমিলিয়ে ১৭ হাজারের মতো নেতাকর্মীর তথ্য জমা পড়েছে এখন পর্যন্ত। তৃণমূলে নেতাকর্মীদের অসহযোগিতা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের উদাসীনতার কারণেই এমনটি হয়েছে বলেও তারা জানান। আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আসন্ন ঈদের পর তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ জোরেশোরে শুরু হবে।