এখন গ্রীষ্মকাল। তাই কড়া রোদের মাঝেই কখনো কখনো বৃষ্টির মুখোমুখি হতে হয়। আকাশে সূর্যের হাসি দেখে ছাতার তোয়াক্কা না করেই বেরিয়েছেন ঘরের বাইরে, হঠাত্ এক পসলা বৃষ্টি ভিজিয়ে দিতে পারে আপনাকে। আবার কড়া রোদের হাত থেকে নিজেকে না বাঁচালে অসুখও করতে পারে। রোদ থেকে বাঁচার নানা পরার্মর্শ নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন নওশীন শর্মিলী
এই সময়ের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো—গরম। নাগরিক জীবনে নানা ব্যস্ততার মাঝেও গরম নিয়ে হা-পিত্যেশের গল্পের শেষ নেই। কেমন করে রোদ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে তা নিয়ে নানা কায়দা-কসরত করতে দেখা যাচ্ছে নাগরিকদের। অথচ কয়েকটি সাধারণ বিষয়ের দিকে নজর দিলেই এ রোদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা সহজ হয়। এমন দুটি বিষয় হলো—ছাতা ও সানগ্লাস। প্রচণ্ড রোদে সানগ্লাস খুব উপকারী।
গরমেই মূলত চোখের নানা ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। আর এর সাথে, কারও যদি মাইগ্রেন বা সাইনাসের সমস্যা থাকে তাহলে তো কথাই নেই! এসব সমস্যা থেকে খুব সহজে রেহাই পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো সানগ্লাস ব্যবহার করা।
ছাতা
বাজারে বিভিন্ন ধরনের ছাতার দেখা মেলে। একসময় কালো ছাতার খুব চল ছিল, এখন ছাতায় এসেছে বাহারি ডিজাইন আর রং। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাকরিজীবীদের কথা বিবেচনা করে তৈরি হচ্ছে বাহারি ছাতা। এখন ঝালর লাগানো ছাতা খুব চলছে তরুণীদের হাতে। বিভিন্ন প্রিন্টের কাপড়ের ছাতাও দেখা যায়। প্রিন্টের ছাতার কিনারায় আলাদা কাপড়ের কুচি দিয়ে ডিজাইন করা ছাতাও পাওয়া যাচ্ছে। এতে ছাতাটি দেখায় আরও আকর্ষণীয়। বাজার ঘুরে ফুল, প্রজাপতি, পাখি আবার লতাপাতার ছবিসংবলিত ফ্যাশনেবল ছাতা যেমন মিলবে, তেমনি এক রঙের ছাতার ওপরে বল ছাপ আবার এক পাশে লেইসের নকশা করা ছাতাও মিলবে। এই ছাতা দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি অনায়াসেই ভাঁজ করে ব্যাগে রাখা যায়। অর্থাত্ ব্যবহারও আরামদায়ক। লাল গাঢ় পার্পলের এক রঙের সঙ্গে প্রিন্ট, ঝালর আর লেইস লাগানো ছাতা খুব চলছে। বৃষ্টির দিনে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস ছাতা। আজকাল বাজারে শিশুদের জন্যও নানা ধরনের ছাতা পাওয়া যাচ্ছে। ফুলেল নকশা করা লম্বা স্টিকের ছাতা রয়েছে, হাতে ধরার অংশটুকু বাঁকানো। এ ছাড়া ভাঁজ করা যায় যেসব ছাতা সেগুলোর মধ্যে আছে মিকিমাউস, ক্যামপার, পোফেসন ইত্যাদি। এসব ছাতায় হাতে ধরার অংশটুকুতে ফিতা লাগানো থাকে। আবার স্টিক ছাতাগুলোর মতো বাঁকানোও পাওয়া যায়। অ্যাটলাস, রিভেরি, পজ ইত্যাদি কোম্পানির ছাতার চাহিদা বেশি। শিশুর জন্য কম চওড়া ছাতাই ভালো। তাহলে শিশু সহজে বহন করতে পারবে।
দরদাম
একটু ভালো মানের ছাতার দাম শুরু ৪৫০ টাকা থেকে। কম দামি চাইলে ১৫০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাবে।
টিপস
ছাতার কাপড়টা ভালো মানের কি না তা দেখে কিনুন।
শিকগুলো মজবুত কি না দেখে নিন।
আজকাল বাহারি ছাতা পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে পছন্দের রং দেখে কেনা যেতে পারে।
সানগ্লাস
ব্র্যান্ডেড জিনিসের প্রতি প্রায় সবারই একটা বাড়তি আকর্ষণ থাকে। ফুটপাত থেকে শুরু করে বহুতল বিপণী সবখানেই সানগ্লাসের দোকান খুঁজে পাওয়া যায়। ব্র্যান্ডেড সানগ্লাস কিনতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই ভালো দোকানে যেতে হবে। ব্র্যান্ডেড সানগ্লাস দুই ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। রোদচশমার গুণগত মান ভালো থাকে এবং এগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অনেক ফ্যাশনেবল হয়। বিভিন্ন নামের ব্র্যান্ডেড সানগ্লাসের মধ্যে আছে রে ব্যান, গুচি, সিকে, পুলিশ ইত্যাদি। এসব ব্র্যান্ডেড সানগ্লাস ছেলেমেয়েদের আলাদা ডিজাইন এবং ভিন্ন দামে পাওয়া যায়। এ ছাড়া দেশের সবখানেই নন-ব্র্যান্ডেড সানগ্লাস কিনতে পাওয়া যায়। এগুলোতে দেখা যায় বৈচিত্র্য এবং দামটাও থাকে হাতের নাগালে। ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য আলাদা করে তৈরি করা হয় সানগ্লাস। তবে কিছু কিছু সানগ্লাস ছেলেমেয়ে সবাই ব্যবহার করতে পারবে। ফ্যাশনের প্রয়োজনে যদি কিছুদিন অন্তর অন্তর সানগ্লাস বদলাতে চান, তবে নন-ব্র্যান্ডেড পণ্যই ব্যবহার করা ভালো। হালের ফ্যাশনে গা না ভাসিয়ে নিজের পছন্দের সাথে মিলিয়ে সানগ্লাস কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন মাপেরই সানগ্লাস বাজারে আসুক না কেন, সেটা কেনার আগে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে নেবেন, সেটা আপনাকে মানাচ্ছে কি না! গোলগাল চেহারা হলে অবশ্যই আপনি সানগ্লাসের গ্লাসটা যেন একটু লম্বাটে ধরনের হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। আবার একটু লম্বাটে ধরনের মুখ হলে ডাম্বেল আকৃতি বা মুগুরাকৃতির সানগ্লাস বেশ ভালো মানাবে। খেয়াল রাখবেন, চোখের কোল ঢেকে যায় এমন সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
মডেল নওরীন মেকআপ হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল
ছবি তাহের মানিক
