একটুখানি হিসাব-নিকাশ

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৪২
নতুন সংসার শুরু করেছেন কিংবা সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন বহু বছর ধরে। সব ধরনের মানুষদেরই একটা সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। আর তা হলো আর্থিক সংকট। সংসার চালাতে গেলে এই সমস্যার মুখোমুখি হতেই হবে। সংসার চালাতে গেলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। খুব স্বাভাবিক নিয়মেই সেটা হয়। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ সময় অনেকে হতাশ হয়ে যান, ভেঙে পড়েন। কিন্তু ডিপ্রেশনে ডুবে নয়, দাম্পত্যে আর্থিক সংকটের মোকাবিলা করতে হবে পজিটিভ মাইন্ডের সাহায্যে। লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম  অফিসে বা বাড়িতে যেমন অনেক কঠিন কাজ করতে হয় ঠিক তেমন আর্থিক সমস্যাটিও এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রথম শর্তই হচ্ছে, একে অপরের দোষারোপ না করে, একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে একটি ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যান বানানো উচিত। সেই প্ল্যান অনুযায়ী জমা, খরচ ও ইনভেস্টমেন্টের সব হিসাব রাখলে সংসার চালানো সহজ হতে পারে।  নিজের পরিচিত জগত্ থেকে বের হতে হবে। মানে, নিজের পড়াশোনা, স্কিল অনুযায়ী কাজ খোঁজা উচিত। তাহলে একদিকে কাজেও যেমন মন দিতে পারবেন তেমনি সংসারের সাথে ব্যালেন্স করতেও সুবিধা হবে। তবে সে ক্ষেত্রে টাকার নিক্তিতে কাজকে মাপতে গেলে বিপদে পড়তে হবে। মূল কথা হলো, কাজে আনন্দ পেলে রোজগার এমনিতেই বাড়বে।  এসবের বাইরে, বাড়িতে আরও কোনো রিসোর্স যদি থাকে তবে সেটা কাজে লাগিয়ে ইনকাম করা যেতে পারে। হতে পারে, আপনার বাড়তি ঘর আছে, কারও শখ থাকলে রান্না করে হোম ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি ছেলেমেয়েকে উত্সাহ দিতে পারেন টিউশন, ফ্রিল্যান্স লেখালিখি, ফটোগ্রাফি বা অন্য কোনো পার্ট টাইম জব করে পকেটমানি জোগার করার ব্যবস্থা করতে।  সংসারের প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় খরচের একটা তালিকা বানানো যেতে পারে। তালিকা বানানের সময় আপনার সন্তানদের সাথে রাখতে পারেন। তাহলে সংসারের কাজে একদিকে যেমন তাদেরকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তেমনি তাদের ব্যাপারটা নিয়ে একটা চেতনা তৈরি হবে। এর ফলে তাদের বাড়তি খরচের চিন্তা কিছুটা হলেও দূর হবে।  বাড়িতে চুপচাপ বসে না থেকে নিজেকে কোনো ধরনের কাজে ব্যস্ত রাখা ভালো। তাতে সংসারের সমস্যার কথাগুলো থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে। চাকরি করা বাদে হাতে যে সময়টুকু থাকে সেটা ছেলেমেয়েদের সাথে কাটানো যেতে পারে। যেমন, তাদের হোমওয়ার্কে সাহায্য করা, বিকালে তাদের পার্কে নিয়ে যাওয়া। এসব করলে মনও ভালো থাকবে।  এ ছাড়াও ঘর গোছানো, বাগানের পরিচর্যাসহ ঘরের নানা ধরনের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সংসারের কাজে মন বসবে। পাশাপাশি অর্থিক দুশ্চিন্তা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।  সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য। পাশাপাশি সংসারের সবারই উচিত সমস্যা সমাধানের জন্য এগিয়ে আসা। সবাই যদি একসাথে ভেঙে পড়েন তাহলে কে কাকে সামলাবেন। আর তাই একটু হিসেবে মতো চললেই সব সমস্যার সমাধান করে ফেলা যায় খুব সহজেই।