ঠোঁট সাজাতে

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৪৩
নারীর সৌন্দর্যে ঠোঁটের সাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেকআপ যতই নিখুঁত হোক না কেন, ঠোঁটে লিপস্টিক না দিলে সাজ যেন পূর্ণতা পায় না। কারণ ঠোঁট মানুষের শরীরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ। তাই এর বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত। লিপস্টিক মেকআপে ভারসাম্য আনে। অনেকে চোখের সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লিপস্টিকের রং নির্বাচন করেন। আবার উল্টোটাও করা যায়। লিপস্টিকের রঙকে প্রাধান্য দিয়ে চোখকে সাজানো যায়। আবার মুখের ত্বক থেকে তুলনামূলকভাবে ঠোঁট বেশি সংবেদনশীল এবং নরম। তাই ঠোঁট জোড়া মসৃণ, নরম ও টুকটুকে গোলাপি রাখতে সঠিক যত্ন নিতে হবে। ঠোঁটের যত্নে প্রাথমিক তথ্য আজকাল ঠোঁটের প্রসাধন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াও অফিস, ক্লাস বা বাইরে গেলে সবাই ঠোঁটে লিপস্টিক বা লিপগ্লসের ছোঁয়া দিতে ভুল করে না। লিপস্টিক ব্যবহার করার পূর্বে আপনার ঠোঁট খুব শুকনো বা খুব তৈলাক্ত যেন না থাকে সেইদিকে খেয়াল রাখবেন। ঠোঁটে সামান্য পাউডার দিয়ে নিবেন। দিনে হালকা ও রাতে গাঢ় রঙের লিপস্টিক বা লিপ গ্লস ব্যাবহার করুন। এতে আপনার ঠোঁট সুন্দর দেখাবে। আপনার ঠোঁট যদি ছোট হয় তবে হালকা রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করুন। গাঢ় রঙের লিপস্টিক আপনার ঠোঁটকে আরও ছোট করে দেখাবে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে সব সময় আপনার ঠোঁটের লিপস্টিক বা লিপ গ্লস ক্লিঞ্জিং মিল্ক দিয়ে তুলে ফেলুন। এরপরে ভালো কোনো লিপ বান ব্যবহার করুন। বাইরে যাওয়ার আগে লিপস্টিক ব্যবহার করতে ইচ্ছা করতেই পারে। কিন্তু সব সময় লিপস্টিক ব্যবহার করা পরিহার করুন। নিয়মিত লিপস্টিকের ব্যবহারে আপনার ঠোঁট কালো হয়ে যাবে। সব সময় খেয়াল রাখবেন আপনার লিপস্টিক বা লিপগ্লস যেন ভালো ব্র্যান্ডের হয়। লিপস্টিক লিপস্টিকের কারণে ঠোঁটে অ্যালার্জি ও ঠোঁটের ক্ষতি হতে পারে। তাই আপনার ঠোঁটে যে কোম্পানির লিপস্টিক কোনো প্রতিক্রিয়া করবে না, সেটাই ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে দামি কোম্পানির লিপস্টিক ব্যবহার করা ভালো। লিপস্টিক লাগানোর আগে ভালোভাবে ঠোঁট পরিষ্কার করুন। প্রথমে অল্প একটু ফাউন্ডেশন ঠোঁটে লাগিয়ে নিতে হবে। ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লিপ-পেন্সিল দিয়ে ঠোঁটের চারপাশ এঁকে ভেতরে পছন্দমতো লিপস্টিক লাগাতে পারেন। লিপস্টিক লাগানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন তা লিপলাইনের বাইরে না বেরিয়ে যায়। লিপস্টিক লাগানোর পর টিস্যু পেপার রেখে ঠোঁট জোড়া করে চেপে নিন। এতে বাড়তি রং উঠে আসবে এবং লিপস্টিক দীর্ঘস্থায়ী হবে। লিপস্টিক কীভাবে লাগাবেন প্রথমে আপনার ঠোঁটের সীমারেখা বরাবর আউট লাইন এঁকে নিন। এবারে লিপস্টিক থেকে ব্রাশের সাহায্যে লিপস্টিক নিয়ে ঠোঁটের ভেতর ভরাট করুন। যে রঙের লিপস্টিক দেবেন তার চেয়ে গাঢ় রঙের লাইনার ব্যবহার করুন। আকর্ষণীয় করতে ঠোঁটের মাঝখানে লিপগ্লস লাগান। সাধারণ রঙের লিপস্টিকের ওপর লিপগ্লস লাগাতে পারেন। লিপস্টিকের রং আমাদের দেশের মানুষের গায়ের রঙের সাথে হালকা গোলাপি, কমলা, বাদামি, হালকা বেগুনি লিপস্টিকের রং বেশি মানানসই হয়। লিপস্টিকে এ সময়কার সবচেয়ে জনপ্রিয় রঙগুলো হচ্ছে—কমলা, বাঙ্গি ও জাম রং। তবে লাল রং পুরো চেহারাতে ক্লাসিক লুক তৈরি করে, যা কখনোই পুরোনো হয় না। তবে লিপস্টিকের রং নির্বাচনে সবসময় মাথায় রাখা উচিত আপনি কোথায় যাচ্ছেন, আপনার পোশাক এবং আপনার ব্যক্তিত্বকে। সবসময় বাজার চলতি রঙের শেড ব্যবহার করতে হবে এমন কোনো কথা নাই। যা আপনাকে মানাবে সে রঙের লিপস্টিকই ব্যবহার করুন। অফিসে সবসময় হাল্কা শেডের লিপস্টিক ব্যবহার করুন। এটা আপনার প্রফেশনাল লুক আনে। তবে রাতে অনুষ্ঠান গাঢ় এবং ভারী শেড ব্যবহার করতে পারেন। ভালো লাগবে। ইদানীং লিপস্টিক পরিবর্তে বিভিন্ন শেডের লিপগ্লস ও খুব জনপ্রিয় হয়েছে। লিপ লাইনার মোটা ঠোঁট চিকন দেখাতে চাইলে ঠোঁটের ভেতর দিক দিয়ে সীমারেখা আঁকতে হবে। প্রথমে স্বাভাবিক রঙের লিপলাইনার দিয়ে সমান্তরাল রেখা টানুন। খেয়াল রাখতে হবে ঠোঁটের দুই কোণের লাইন যেন সমান হয়। এরপর লিপস্টিকের প্রলেপ দিন। চিকন ঠোঁট মোটা করতে লিপ-পেন্সিলের সীমারেখা টানতে হবে ঠোঁটের রেখার কিছুটা বাইরে দিয়ে। আর পুরোটা ঢেকে দিন প্রয়োজনীয় রঙে। তবে খেয়াল রাখবেন, লিপলাইনারের রেখা যেন লিপস্টিকের রঙের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়।  অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতায় লিপস্টিক তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়, তাই লিপস্টিক জিপ লক ব্যাগে ভরে ফ্রিজে রাখুন। অনেকদিন ভালো থাকবে।  লিপ ব্রাশ প্রতি সপ্তাহে একবার পরিষ্কার করুন। ঈষদুষ্ণ জলে সামান্য শ্যাম্পু মিশিয়ে সেই জলে ব্রাশ ধুয়ে ফেলুন। পরিষ্কার কাপড় দিয়ে শুকনো করে বক্সে তুলে রাখুন।  লিপস্টিক ব্যবহার করার পর শক্ত করে ক্যাপ লাগিয়ে রাখুন। যাতে ধুলা না লাগে। কারণ ধুলা লাগলে তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।