হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে যখন কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বস্ত সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে, তখন স্বয়ং মাইক্রোসফটই জানিয়েছে তাদের ওয়েব ব্রাউজার ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে রয়েছে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি যার মাধ্যমে হ্যাকাররা এই ব্রাউজার ব্যবহারকারীদের তথ্য হাতিয়ে নিতে সক্ষম। বিশেষ করে এখনও পর্যন্ত যারা উইন্ডোজ এক্সপিতে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহার করে থাকেন, তাদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি। এই ব্রাউজারের ষষ্ঠ থেকে শুরু করে একাদশ পর্যন্ত সবগুলো সংস্করণেই এই ঝুঁকি বিদ্যমান। সম্প্রতি একটি নিরাপত্তা সংস্থা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের এই বাগ সম্পর্কে অবহিত করে। পরে মাইক্রোসফট নিজেও এই ত্রুটির কথা স্বীকার করে নিয়েছে। খুব দ্রুতই এই ত্রুটি সারিয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা। তবে এর মধ্যেই মার্কিন বেশকিছু কোম্পানি ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের এই ত্রুটিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সংস্থা ফায়ারআই। ‘অপারেশন ক্ল্যান্ডেস্টাইন ফক্স’ শীর্ষক একটি ক্যাম্পেইনের আওতায় হ্যাকাররা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের এই ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে তথ্য চুরির কাজটি করেছে বলে জানায় তারা। তবে কোন কোন কোম্পানি এই আক্রমণের স্বীকার হয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে সেই নামগুলো তারা প্রকাশ করেনি। ফায়ারআইয়ের এক মুখপাত্র এ সম্পর্কে এক ইমেইলে বলেন, ‘এই আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা এবং আর্থিক খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান। তবে এই আক্রমণের কোনো উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।’ এদিকে ত্রুটির কথা স্বীকার করে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, এই ত্রুটিকে ব্যবহার করে কোনো ক্ষতিগ্রস্থ সিস্টেমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হ্যাকারের পক্ষে। এরপর ওই সিস্টেমে ক্ষতিকর কোনো সফটওয়্যার ইন্সটল করা, সিস্টেমের তথ্য ডিলিট করা এবং হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণ অটুট রাখতে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির মতো কাজগুলো করা সম্ভব বলে জানিয়েছে তারা। সিকিউলার নামক আরেকটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের চিফ টেকনোলজি অফিসার আভিভ রাফ জানান, ইতোমধ্যেই হ্যাকাররা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারকে কাজে লাগিয়ে আরও অনেক তথ্য হাতিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাইক্রোসফট দ্রুতই এর কোনো সমাধান হাজির না করতে পারলে প্রযুক্তি বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
