সাতক্ষীরায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে জামায়াত কর্মী নিহত

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৬
সাতক্ষীরার দেবহাটায় পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছে। নিহত জামায়াত কর্মীর নাম সিরাজুল ইসলাম (৪৫)। তিনি দেবহাটা উপজেলার চিলেডাঙা গ্রামের বাবর আলীর ছেলে। বলা হয়, এ সময় আহত হয়েছে দু’ পুলিশ সদস্য। মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার সখীপুর ইউনিয়নের কেওড়াতলা নামক স্থানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেনঃ সিপাহী জামিরুল ইসলাম ও মঈনুদ্দিন। তাদেরকে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী জামালউদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগ নেতা আবু রায়হান হত্যা, গাছকাটা, সহিংসতাসহ একাধিক মামলার আসামি জামায়াত কর্মী সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন জামায়াত-শািবর কর্মী সহিংসতার পরিকল্পনা করছে এমন খবরের ভিত্তিতে সখীপুর গুচ্ছগ্রামের পাশে কেওড়াতলা নামক স্থানে ভোর চারটার দিকে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ৫/৬টি ককটেল ছোঁড়ে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে সেখানে ১০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সিরাজুল। আহত সিরাজুলকে দ্রুত সখীপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১টি ওয়ান শ্যুটারগান ও ৩টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত সিরাজুল একজন সবজি ব্যবসায়ী। তাদের গ্রামের সম্প্রতি জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী আবু সাইদের ছেলে হাফিজুল ইসলামসহ কয়েকজন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিরাজুলকে তার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে মারপিটের পর পুলিশে দেয়। মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ তাকে গুলি করলে সে মারা যায়। সাতক্ষীরায় জামায়াতের সকাল-সন্ধ্যা হরতালের প্রভাব পড়েনি সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরায় জামায়াতের ডাকা মঙ্গলবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতালে জনজীবনে কোন প্রভাব পড়েনি। সড়ক মহাসড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলে স্বাভাবিকভাবে। হরতালের সমর্থনে জেলার কোথাও পিকেটিং অথবা মিছিল-সমাবেশের খবর পাওয়া যায়নি। ভোমরা স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। হরতাল ডেকে কেন মাঠে নেই জামায়াত? এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক এসএম আজিজুর রহমান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে পিকেটিং অথবা বিক্ষোভ করা সম্ভব হয়নি। রবিবার বিকেলে শহরের কামালনগর কবরস্থানের পাশে এক বাসায় শিবিরের বৈঠক চলাকালে পুলিশ সেখানে হানা দেয়। পুলিশের সাথে গুলিতে নিহত হন শহর শিবিরের সেক্রেটারি আমিনুর রহমান। গুলিবিদ্ধ হন ৭ শিবির নেতাকর্মী। এ ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াত-শিবির মঙ্গলবার সাতক্ষীরায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেয়।