বরগুনার আমতলী উপজেলায় আলোক সহিষ্ণু উন্নত জাতের ধান আবাদ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষক। মানিকঝুড়ি এলাকার কৃষকরা ক্ষেত ভরা ধান পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
বৈশ্মিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় কৃষিতে দুর্যোগ প্রবণতা মূল্যায়ন ও সাইক্লোনের ব্যাপক ধ্বংস এড়িয়ে চলার কৌশল হিসেবে সরকারের কৃষি বিভাগ বরগুনা জেলায় এএইউআই এফ হ্যাকেপ নামের গবেষণামূলক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষকদের সহায়তায় এ বছর জেলার আমতলী, বরগুনা সদর ও পাথরঘাটা উপজেলায় প্রাথমিক পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ বছর জেলার মোট ৫০ জন কৃষক আমন ও রবি মৌসুমে আলোক সহিষ্ণু, স্বল্প জীবনকাল বিশিষ্ট এপ্রিল ও অক্টোবর মাসের মধ্যে কর্তনযোগ্য ধান চাষ করে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও নানা পরামর্শ দিয়ে সফলভাবে এ ধানের উত্পাদন করা হয়। প্রকল্পের আওতাধীন জমিতে স্থানীয় জাতের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ফলন পেয়েছে কৃষক। এক একর জমিতে এ পদ্ধতিতে ধানের আবাদ করেছিলেন কৃষক শাহআলম শিকদার। তিনি বলেন, ধান লাগাইয়া মোরা লোকাল ধানের চাইতে প্রায় এক দেড় মাস আগে ধান ঘরে উডাইতে পারছি। ফলনও পাইছি দুই গুণ। সম্প্রতি আমতলী উপজেলার মানিকঝুড়ি এলাকায় প্রকল্পের শস্যকর্তন ও কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. আবদুল ওয়াহাব ভুঞা, বিশেষ বক্তা ছিলেন হ্যাকেপ প্রকল্পের বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি ড.সিরো নাকাতা, প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক প্রফেসর ড. এমএ হালিম, জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম মাতুব্বর, সহকারী কমিশনার ভূমি দেবেন্দ্র নাথ উরাও, আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহআলমসহ প্রকল্পের আওতাভুক্ত কিষান-কিষানীরা।
