রিয়ালে বিধ্বস্ত বায়ার্ন

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৩৫
আক্রমণাত্মক ফুটবলের ভীতিকর এক প্রদর্শনীতে গত মঙ্গলবার রাতে রিয়াল মাদ্রিদ ৪-০ গোলে বায়ার্ন মিউনিখকে তাদের মাঠে উড়িয়ে দিয়ে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো পৌঁছে গেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে। আর টুর্নামেন্টের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ার পথে দুই গোল করে রাতটাকে স্মরণীয় করে রেখেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অবশ্য তার আগেই দুই গোল করে বায়ার্নকে শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন সার্জিও রামোস। আর এই দু’জনের জোড়া লক্ষ্যভেদে বায়ার্নের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে ‘লা দেসিমা’ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দশম শিরোপার হাত ছোঁয়া দূরত্বে পৌছে গেল রিয়াল। বায়ার্ন যদি জেতে তাহলে গত দুই যুগে প্রথম দল হিসাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা ধরে রাখার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে তারা। আর টুর্নামেন্টের গত তিন আসরেই ফাইনাল খেলা রিয়ালের সামনে ছিল প্রথম দল হিসাবে এই টুর্নামেন্টে দশম শিরোপার হাতছানি। এমন এক সমীকরণ সামনে নিয়ে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে নামা দুই দলই দিয়েছিল আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু, রোনালদো-গ্যারেথ বেল-করিম বেনজামাদের সমন্বয়ে গড়া রিয়ালের আক্রমণভাগের সামনে পাত্তাই পেল না বায়ার্ন। প্রথম লেগে ১-০ ব্যবধানে পরাজয়ের এমনিতেই চাপা থাকা স্বাগতিকরা এদিন অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলে ম্যাচের শুরুতেই। লুকা মডরিচের কর্নার থেকে পাওয়া বলকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচের মাত্র ১৬ মিনিটেই রিয়ালকে এগিয়ে দেন রামোস। গোল পরিশোধে মরিয়া বায়ার্ন বারবারই দুই উইংকে কাজে লাগিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু, রিয়ালের জমাট রক্ষণের সামনে বারবারই পরাস্ত হতে হয় ফ্রাঙ্ক রিবেরি-আরিয়েন রোবেনদের। উল্টো আবারো গোল খেয়ে বসে তারা। স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে ম্যাচের এবং নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রামোস। এবারের গোলের উত্স ছিল ফ্রি কিক। রামোসের এই গোলের সাথে সাথে প্রায় শেষই হয়ে যায় ম্যাচ। কারণ, গত পাঁচ বছরে চতুর্থবারের মতো ফাইনালে পৌঁছাতে বায়ার্নকে তখন করতে হতো চার গোল! বায়ার্নের কিছু আশা যদি তখনো অবশিষ্ট থেকে থাকে, সেটা মিইয়ে দিতে সামান্যই সময় নেন রোনালদো। গ্যারেথ বেলের দারুণ এক পাসকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ৩৪ মিনিটে এই টুর্নামেন্টে চলতি মৌসুমে নিজের দশম ম্যাচে পঞ্চদশ গোলটি করেন তিনি। রিয়ালকে তিন গোলের প্রায় অনতিক্রম্য অগ্রগামিতা এনে দেয়ার পাশাপাশি এই গোলের মাধ্যমে রেকর্ডবুকের পৃষ্ঠায়ও নতুন কিছু যোগ করেন এই পর্তুগীজ। লিওনেল মেসি-রুদ ফন নিস্টলরয়দের টপকে এক মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন রোনালদোর দখলে। ম্যাচের অবশিষ্ট সময়ে গোলের জন্য দুই পক্ষই লড়াই চালিয়ে গেলেও সফল হতে পারছিল না কেউই। নির্ধারিত সময়ের সর্বশেষ মিনিটে শেষ পর্যন্ত সফল হন রোনালদোই। প্রায় ষাট হাজার স্বাগতিক দর্শকদের সামনে বায়ার্নকে লজ্জায় ডুবিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ প্রাচীরের নিচ থেকে ফ্রি কিক জালে জড়ান তিনি। একই সঙ্গে বায়ার্নের মাঠে নিজেদের প্রথম জয়টিও তুলে নেয় রিয়াল। রিয়ালের দারুণ দলীয় সমঝোতাই শারীরিক শক্তিমত্তা নির্ভর এই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রামোস। এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘গোলদেয়াটা ব্যক্তিগত খুশির কারণ তবে আজকের ম্যাচের মূল বিষয়টা ছিল একটা দল হিসাবে খেলতে পারাটা। আমি ভাগ্যবান যে দুটি গোল করতে পেরেছি। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় যেটা আমি আরো বেশি করে করতে চাই। কোন সন্দেহ নেই আজকের ম্যাচে শারীরিক সক্ষমতার অনেকটা ভূমিকা ছিল। তবে রিয়াল মাদ্রিদ প্রমাণ করেছে তারা কোন ধরনের দল। প্রত্যেকেই সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে খেলেছে। ফাইনালে যাওয়াটা আসলে স্বপ্ন সত্যি হবার মতোই ব্যাপার।’