বিদ্যুিবহীন ট্র্যানজিস্টার রেডিও
রেডিওর প্রধানত দুটি অংশ থাকে। প্রথমটি হলো প্রেরক অংশ যেখান থেকে শব্দ ইত্যাদি পাঠানো হয়। কেউ গান গাইলে বা কথা বললে সেই শব্দকে এক বিশেষ প্রক্রিয়ার সাহায্যে বিদ্যুত্ চৌম্বিক তরঙ্গে পরিণত করে বাতাসে ছাড়িয়ে দেওয়া এই অংশের কাজ। এই কাজটি বিভিন্ন বেতার কেন্দ্র করে থাকে। দ্বিতীয় অংশে বাড়িতে এরিয়ালে এই তরঙ্গ ধরে তাকে গ্রাহকযন্ত্রের সাহায্যে শব্দে পরিণত করা হয়। আর এই শব্দই আমরা শুনে থাকি। এই গ্রাহকযন্ত্রের জন্য কোনো প্রকার বৈদ্যুতিক শক্তির প্রয়োজন হয় না। এই ট্র্যানজিস্টার রেডিও সার্কিটটি ট্র্যানজিস্টারের সবচেয়ে সহজতম সার্কিট। এই সার্কিটে একটিমাত্র কয়েল ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেটি বাজারে প্রচলিত যেকোনো স্ট্যান্ডার্ড মিডিয়াম ওয়েভ কয়েল। ভেরিয়েবল কেপাসিটরটি ০.০০০৫ Mfd এবং অপর কেপাসিটরটি ০.০০২ Mfd-এর। এই সেটটিতে আর্থ ও এরিয়াল প্রয়োজন। ট্র্যানজিস্টারে কালেকটার, বেস ও অ্যামিটার এই নামবিশিষ্ট তিনটি তার থাকে। যে তারটির নিকটে ট্র্যানজিস্টারের গায়ে লাল ফুটা অথবা ত্রিভুজের মতো চিহ্ন দেওয়া থাকে সেই তারটির নাম কালেকটার, মধ্যের তারটির নাম বেস এবং শেষেরটি অ্যামিটার।
কালের
আবর্তে সূর্য
ভষ্যিতে কেমন হবে আমাদের সূর্য? সূর্য তার জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত ৪০%-৪৫% জ্বালানি খরচ করেছে। আরও পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে আট হাজার মিলিয়ন বছর লেগে যাবে সম্পূর্ণ জ্বালানি খরচ হতে। তারপর অতিমাত্রায় প্রজ্জ্বলিত সূর্য পরিণত হবে রক্তিম বৃহত্ রেড জায়ান্টে। বর্তমান অবস্থা হতে ১০০ গুণ বিস্তৃত ব্যাস সমৃদ্ধ ১০০০ গুণ বেশি আলোকোজ্জ্বল রেড জায়ান্ট সূর্যটি তার বিশাল ব্যাপ্তি নিয়ে বুধ, শুক্র এমনকি পৃথিবীর কক্ষপথকে গ্রাস করে ফেলবে নিজের অভ্যন্তরে। ধুকে ধুকে জ্বলবে রেড জায়ান্ট। সম্প্রসারিত হবে আবার সংকুচিত হবে আকারে। সকল শক্তি নিঃশেষ করে ক্ষীণ আভা বিকিরণ করতে করতে রূপান্তরিত হবে প্ল্যানেটারি নেবুলায়। অবশিষ্ট থাকবে ক্ষয়ে যাওয়া সূর্যের কেন্দ্রের সামান্য কিছু অংশ, যা কিনা বিলিয়ন বছর পরে রূপান্তরিত হবে বামন সদৃশ ব্রাউন ডোয়ার্ফে। এর ভর হবে বর্তমান সূর্যের ভরের একশত ভাগের আট ভাগ মাত্র। মহাকাশের নক্ষত্রসমূহ, যারা কিনা সূর্যের বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ সকলকেই বরণ করে নিতে হবে এরূপ পরিণতি।
বিদ্যুতের বিকল্প উইন্ড
পাওয়ার প্ল্যান্ট
বাতাসের শক্তিকে একটি সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা সম্ভব। আর তা করা যায় উইন্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের দ্বারা। দেশের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় ১০০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনে উইন্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট বা বায়ুশক্তিচালিত বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এটি একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উত্স। এটি বিদ্যুত্ উত্পাদনের সহায়ক হিসেবে কাজে লাগতে পারে। বায়ুশক্তিচালিত টারবাইন দ্বারা যথেষ্ট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা সম্ভব। বিভিন্ন দেশে এ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ডেনমার্ক, হল্যান্ড এ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে শক্তি ও বিদ্যুত্ উত্পাদনের দিক থেকে অনেক অগ্রসরমান। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো যেমন—নেপাল ও ভারতে এ ধরনের উইন্ডমিল স্থাপন করা হচ্ছে।
সাগরের তাপশক্তির রূপান্তর
বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা বিদ্যুত্ শক্তির উত্স ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যাওয়া। তবে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এ ক্ষেত্রে সমুদ্র অপরিসীম বিদ্যুত্ উত্স হিসেবে কাজ করতে পারে। সাগরের পানিতে ওপরে এক রূপ আর নিচের দিকের পানিতে আরেক রূপ। সূর্যের আলোয় ওপরের পানি ক্রমে উষ্ণ হয় এবং নিচের দিকের পানি থাকে শীতল। অল্প তাপে ফুটতে থাকে এমন তরল গ্যাস ব্যবহার করে সাগরের ওপরের দিকের পানি থেকে তাপ সংগ্রহ করে বিশেষ প্ল্যান্টের সহায়তায় টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যায়।
টিউব লাইটে বেশি আলোর কারণ
ইনক্যানডেসেন্ট (Incandescent) বাল্বে, বিদ্যুত্ থেকে আলো পাওয়ার প্রাচীনতম উদ্ভাবন, পাতলা তারের একটি কয়েল (ফিলামেন্ট) আছে, যার ভেতর দিয়ে বিদ্যুত্ প্রবাহিত হয়। এই পাতলা তারের প্রতিবন্ধকতার কারণে এই ফিলামেন্ট উত্তপ্ত হয়ে চারদিকে আলো ছড়িয়ে দেয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় বেশির ভাগ বিদ্যুত্ তাপে এবং সামান্য অংশ আলোতে পরিণত হয়। ফ্লোরেসেন্ট টিউব লাইট ভিন্নভাবে কাজ করে। দীর্ঘ টিউবের ভেতরের অংশ এক প্রকার ফ্লোরেসেন্ট বস্তু দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে। যদিও এই টিউবের উভয় প্রান্তে ফিলামেন্ট থাকে, গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে এটি আলো তৈরি করে। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিদ্যুত্ প্রবাহিত হয় পারদের বাষ্পের মাধ্যমে, যা অতিবেগুনি রশ্মি নির্গত করে। এই অতিবেগুনি রশ্মি ফ্লোরেসেন্ট আস্তরণকে উত্তেজিত করে দৃশ্যমান আলো তৈরি করে। যেহেতু এক্ষেত্রে উত্তপ্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তাই টিউব লাইটে প্রবাহিত অধিকাংশ বিদ্যুত্ আলোতে পরিণত হয়, এমনকি ১০০ ওয়াট ইনক্যানডেসেন্ট বাল্বের তুলনায় ৪০ ওয়াটের ফ্লোরেসেন্ট টিউব বেশি আলো তৈরি করে, তাই বিদ্যুতের সাশ্রয় হয়।
আসল ক্যাসিও ক্যালকুলেটর
ইদানীং সবাই ক্যালকুলেটর কিনতে গিয়ে আসল নকলের সমস্যায় পড়ে থাকেন। আসল ক্যাসিও ক্যালকুলেটর আপনি সহজেই চিনতে পারবেন এই পদ্ধতিতে—প্রথমে অন বাটনটি চিপে ক্যালকুলেটরটি অন করুন। এরপর শিফট+সাত—অন একসঙ্গে চাপুন। দেখবেন পুরো ডিসপ্লে কালো হয়ে গেছে। এরপর শিফট বাটনটি চাপতে থাকুন যতক্ষণ পর্যন্ত না এক (১) আসে। এরপর পর পর বাটনগুলো চিপতে থাকুন। দেখুন ডিসপ্লেতে ১, ২, ইত্যাদি পরপর আসছে। অর্থাত্ বাটনগুলো চেক হচ্ছে। এভাবে অন বাদ দিয়ে সব বাটনগুলো চাপুন। এভাবে শিফট থেকে অ্যানসার (Ans) পর্যন্ত সব চেক হয়ে গেলে সমান (=) বাটনটি চিপুন। ডিসপ্লেতে ওকে এলে অন বাটনটি চাপতে হবে। নকল ক্যাসিও শিফট+৭+অন কমান্ডটি বুঝতে পারে না।
আলোর প্রতিধ্বনি
হাবল স্পেস টেলিস্কোপ তুলে এনেছে আলোর প্রতিধ্বনির এক আশ্চর্যজনক চিত্র। নভোমণ্ডলের কোনো এক নক্ষত্র হতে নির্গত আলো, নক্ষত্রটিকে পরিবেষ্টিত, গ্যাস ও ধূলিকণার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবার সময় তা কর্তৃক আবারও প্রতিফলিত হয়, সৃষ্টি করে নভোমণ্ডলে আলোর প্রতিধ্বনি। ফলে পাঁচ বছর আগের গ্যাস ধূলিকণার চিত্র আর দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আলোর দীর্ঘ পরিভ্রমণের পর প্রতিফলিত রশ্মির চিত্র হুবহু একই রূপে ধরা পড়ে টেলিস্কোপে। শব্দের প্রতিধ্বনিতে একই শব্দ যেমন বারবার শুনতে পাওয়া যায় এ ক্ষেত্রে আলোর প্রতিধ্বনিতে সৃষ্ট ছবি বারবার প্রতীয়মান হয়।
গ্রন্থনা সাইফুল ইসলাম জুয়েল
