নাক দিয়ে রক্ত পড়াকে এপিসট্যাক্সিস বলে। সাধারণত: নাকের সেপটামের সামনে ও নিচের এলাকায় আঘাত পেলে রক্ত পড়া শুরু হয়। নাকের এ অংশে অনেকগুলো ধমনী একত্রিত হয়। নাক হতে রক্ত পড়ার কারণগুলোর নানা ধরণের। রোগের কারণ:
১. স্থানীক কারণ-
নাকে আঘাত লাগলে
নাকে আঙ্গুল বা নখ দিয়ে শক্ত ক্রাস্ট খুঁটে তুললে।
নাকে সংক্রমণ যেমন-সর্দি, সাইনুসাইটিস ইত্যাদি হলে।
নাকে টিউমার হলে।
২. সাধারণ কারণ-
উচ্চ রক্তচাপের কারণে
রক্ত স্বল্পতা থাকলে
হিমোফিলিয়া নামক রক্তের রোগ হলে (এ ধরণের রোগীর কেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধে না)
এথোরোস্ক্লোরোসিস বা রক্ত নালিতে চর্বি জাতীয় জিনিস জমা হলে
বিবিধ সংক্রামণ রোগ যেমন-টাইফয়েড, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি হলে।
বিষক্রিয়া বা শরীর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হলে।
মাথায় রক্ত জমা হলে।
গলায় টিউমার হলে
হুপিংকাশি হলে।
পরামর্শ:
প্রথমেই রোগী এবং তার সাথের লোকজনদের আশ্বস্ত করতে হবে।
রোগীর রক্তচাপ বেশি হলে কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
কতক্ষণ যাবত্ এবং আনুমানিক কতটা রক্ত পড়েছিল তা জেনে নিতে হবে।
রোগীকে মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে বসিয়ে দিতে হবে, যাতে রক্ত নাক দিয়ে বের হতে পারে, ঝরা রক্ত যেন কোনভাবেই শ্বাস ও খাদ্যনালিতে ঢুকতে না পারে।
তুলা অথবা পরিচ্ছন্ন ভেজা কাপড় দিয়ে নেজাল প্যাক বা নাসিকারন্ধ্র বন্ধ করে দিতে হবে, তা হলে রক্তপড়া বন্ধ হয়ে যাবে।
আঙ্গুল দিয়ে নাকের ডগা ১০ মিনিট চেপে রাখতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় রক্ত পড়া এর মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।
এভাবে যদি রক্ত পড়া বন্ধ না হয়, সেক্ষেত্রে রোগীকে নাক ভাল ভাবে ঝেড়ে জমাট রক্ত ফেলে নাক পরিষ্কার করতে করতে হবে। কপালে এবং নাকের ুপর ভেজা কাপড় অথবা আইস ব্যাগ রাখতে হবে। তারপর তাকে বসিয়ে নাকের উপর বরফ বা ঠান্ডা পানির পট্টি লাগাতে হবে। এতে অনেকের রক্ত পড়া বন্ধ হযে যায়।
এর পরেও যদি রক্ত পড়া বন্ধ না হয় তবে রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠাতে হবে এবং শুধ রক্ত পড়া বন্ধ করলেই চলবেনা পাশাপাশি রক্ত পড়ার কারণ চিহ্নিত করে তারও চিকিত্সা দিতে হবে। উষ্ণ প্রকৃতির ও মশলা যুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। সূত্র: হামদর্দ
