বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর উদাসীনতায় সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগীয় হাসপাতালের চিকিত্সা সেবা ভেঙ্গে পড়েছে। বর্তমানে রোগীর চেয়ে হাসপাতালে ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যাই বেশি। এ কারণে শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী রোগী হচ্ছে না এই হাসপাতালে। ফলে অলস দিন কাটাচ্ছেন ৮০ জন কর্মকর্তা- কর্মচারী।
জানা যায়, ১৮৭০ সালে সৈয়দপুরে গড়ে উঠে দেশের বৃহত্ রেলওয়ে কারখানা। সেই সুবাদে কারখানার শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর চিকিত্সা সুবিধার জন্য সে সময় ৯০ শয্যার এ বিভাগীয় হাসপাতালটি গড়ে উঠে। অতীতে হাসপাতালের চিকিত্সা সেবার প্রচুর সুনাম ও খ্যাতি থাকলেও তা বর্তমানে হারাতে বসেছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা আগের জৌলুস হারিয়েছে, কমেছে কারখানার শ্রমিক কর্মচারীর সংখ্যাও। ফলে শ্রমিক কর্মচারী রোগীর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। তাছাড়া হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তারদের উদাসীনতা আর অবহেলার কারণে ভেঙ্গে পড়েছে চিকিত্সা সেবা। এ হাসপাতালে মাসে এখন ৫০টি রোগীও ভর্তি হয় না। রাতের বেলায় হাসপাতালের এক চতুর্থাংশে বাতিও জ্বলে না। একটি অংশে এখন মদ-গাঁজা সেবীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।
হাসপাতালটির হিসাব বিভাগের মতে, চিকিত্সক, ফার্মাসিষ্ট, প্যাথলজি, নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়া, মালি, সুইপারসহ ৮০ জন কর্মকর্তা- কর্মচারীর পেছনে বেতন বাবদ সরকারের প্রতিমাসে ব্যয় হয় ৮ লাখ টাকা। আর ভর্তি রোগীদের পেছনে ওষুধ ও খাদ্যতে রোগী প্রতি ব্যয় হয় প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার টাকা। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন ৫-৭ জন অতিরিক্ত রোগী দেখানো হয় ভর্তি খাতায় এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের। এরই মধ্যে হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৪টি ওয়ার্ডে মহিলা ৫ জন ও পুরুষ ২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। বাকি বেডগুলো ফাঁকা। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মচারী আব্বাস আলী জানান, এখানে শুধু প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল পাচ্ছি। দিনে ডাক্তার আসেন একবার।
