সমাজে শিশুর অধিকার সুরক্ষা হলে তাদের সুস্থ বিকাশ সম্ভব। আর সেজন্য শিশুকে যৌন নির্যাতনসহ সকল প্রকার নির্যাতন থেকে রক্ষা করে শিশু অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনেরা। তারা এ লক্ষ্যে সমাজের সর্বস্তরে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শনিবার নগরীর এলজিইডি মিলনায়তনে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের ২০ বছর পূর্তি উত্সবে তারা এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংস্থার সভাপতি তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে উত্সবে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ হোসেন মোল্লা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন এন্ড কাউন্সিলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মেহতাব খানম, সেভ দ্য চিলড্রেন চাইল্ড প্রোটেকশন প্রোগ্রামের পরিচালক নাওমী কানাংগায়া এবং চাইল্ড রাইটস গভর্নেস প্রোগ্রাম পরিচালক হ্যাগার রাস, ন্যাশনাল এ্যাকশন এন্ড কোয়াডিনেটিং গ্রুপের চেয়ারপারসন একেএম মাসুম আলী।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী বলেন, ঘরে ঘরে শিশু নির্যাতন বন্ধে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক শিক্ষা প্রয়োজন। তিনি এই উদ্দেশ্যে সরকারের কিশোর বিকাশ কেন্দ্র ও কিশোর কাউন্সিলিংসহ নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি ব্রেকিং ব্রকিং দ্য সাইলেন্স-এর ২০ বছর পূর্তিতে শুভেচ্ছা জানান এবং শিশু যৌন নির্যাতনের মতো বিষয় নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার বলেন, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সকে নানাদিকে প্রসারিত না হয়ে লক্ষ্যে অবিচল থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।
মোঃ হোসেন মোল্লা বলেন, ২০০৪ সালের এক হিসাব মতে, দেশের দশ লাখ শিশু রাস্তায় থাকে। তারা অনেক রকমের হয়রানির শিকার হয়। এই শিশুদের পুনর্বাসন করা প্রয়োজন। আয়োজক সংস্থার সভাপতি তাসমিমা হোসেন ১৯৯৪ সালে গুটিকয়েক মানুষের সচেতনতা থেকে আবির্ভূত ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০ বছরে আমরা নীরবতাকে ভেঙ্গে বিষয়টিকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার কাজেও অনেকটা এগিয়েছি। তিনি জানান, দেশের ছয়টি এলাকায় ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনটি ছোট কিন্তু নিজেদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বড় কাজ করছে। এজন্য দাতা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনসহ সকলের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
অধ্যাপক মেহতাব খানম বলেন, শিশুরা নিকট আত্মীয় দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে মানসিকভাবে টমাটাইজ হয়। নিজেদের অপরাধী ভাবে। সেই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য কাউন্সিলিং দরকার হয়।
শুরুতে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রোকশানা সুলতানা স্বাগত বক্তব্যে তাদের কার্যক্রম তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বাওনিয়া বাঁধ কমিউনিটির শিশুদের পরিবেশনায় শিশু যৌন হয়রানির উপর একটি নাটিকা এবং ২০ বছরের কার্যক্রমের উপর একটি তথ্য চিত্র উপস্থাপন করা হয়।
