কংগ্রেসের ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে আবির্ভূত প্রিয়াঙ্কা

আপডেট : ০৩ মে ২০১৪, ২৩:২০
১৯৪৭ সাল থেকে অধিকাংশ সময় নেহেরু-গান্ধী পরিবারই ভারত শাসন করেছে। গত দশ বছর একটানা ক্ষমতায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ)। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দলটির। তবে এই ধাক্কাটা শুরুতে যা ভাবা হয়েছিল সেটা হয়তো হবে না। আর এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কন্যা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি দলের রক্ষাকবচ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। দলটির নেতারাও সেটি স্বীকার করেছেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর জনপ্রিয় প্রচারের মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদীকেও বলতে হয়েছে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তার মেয়ের মতো। তবে কৌশলী প্রিয়াঙ্কা পাল্টা বলেছেন, তিনি রাজীব গান্ধীর মেয়ে। চলতি লোকসভা নির্বাচনের জন্য ৪২ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা বড় ভাই রাহুল গান্ধীকে (৪৩) নির্বাচনী প্রচারের প্রধান হিসেবে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাহুলের প্রচারণা মানুষের মধ্যে খুব বেশি সাড়া জাগাতে পারেনি। আর এটা বুঝতে পেরে প্রচারণায় নামেন স্বয়ং প্রিয়াঙ্কা যিনি দলটির বিভিন্ন প্রার্থী নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রচারণায় নেমে প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য ছিল, তিনি কেবল তার মা এবং ভাইয়ের জন্যই প্রচারণা চালাবেন। তবে তার এই বক্তব্য যে কৌশল সেটা সহজেই অনুমেয়। কারন, তিনি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মোদীর সব বক্তব্যের জবাব দিচ্ছেন অত্যন্ত চাতুরতার সঙ্গে। আর এতে যেন দাদী জনপ্রিয় নেত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া দেখা যাচ্ছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যে। ভারতের রাজনীতিতে তার আবির্ভাব ইতিবাচক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, তিনি মোদী এবং তার দল বিজেপির বিরুদ্ধে ‘হূদয়ের’ জন্য যুদ্ধ করছেন। আর এই হূদয়টা হচ্ছে ভারত। তার মতে, কগ্রেসের আদর্শ দেশকে একত্রিত করা। অন্যদিকে বিজেপির আদর্শ দেশকে বিভক্ত করা। নিজের প্রচারণায় পত্রিকার শিরোনাম হতে না পারলেও দুই সন্তানের মা প্রিয়াঙ্কার প্রচারণায়ই গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন রাহুল গান্ধী। রাহুল এবং পিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে ভোটারদের সুসম্পর্ক বিদ্যমান। তবে ভোটারদের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার সম্পর্কটা যেমন আত্মিক যেটা রাহুলের সঙ্গে নেই। রাহুল ভোটারদের ততোটা আকৃষ্ট করতে পারেননি যেটা প্রিয়াঙ্কা পেরেছেন। গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং দিল্লিতে প্রচারণা চালিয়ে দলকে জেতাতে পারেননি রাহুল। যদিও এমপি হিসেবে তার সফলতা ছিল। তার নেতৃত্ব অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাকেও দলের কার্যক্রম থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। বিজেপির একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রিয়াঙ্কা বিজেপিকে এই বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন যে বিজেপির জন্য জয়টা খুব সহজ হবে না। মূলত গত ৭ এপ্রিল ভোট শুরু হওয়ার পরই নিজেকে জনগনের সামনে আনেন প্রিয়াঙ্কা। তার এই আবির্ভাব এটা জনগনকে জানান দিচ্ছে যে, তারা দুই ভাই-বোন কংগ্রেস দলের ভবিষ্যত নেতৃত্বের আসনে আসতে যাচ্ছেন। যদিও প্রিয়াঙ্কাকে স্বামী রবার্ট ভদ্রের আর্থিক কেলেঙ্কারির দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। তবে তিনি ভালভাবেই ভদ্রকে নিয়ে সমালোচনার জবাবও দিচ্ছেন।