টিকলু ভাইয়ের মার্কেট যাত্রা

আপডেট : ২৫ মে ২০১৯, ১৮:৩৪

তানভীর আহাম্মেদ

 

স্বা

 

র্থপর টিকলু ভাই। সবার আগে নিজের কথা ভাবেন সবসময়। এমনকি বউয়ের কাছেও নিজের পাত্তা আগে বুঝে নেন। প্রচণ্ড রাগীও তিনি।

কিন্তু সেদিন দুপুরে সেই টিকলু ভাইয়ের ফোন কল পেয়ে তার বউ অত্যন্ত অবাক।

ফোন করে টিকলু ভাই বাসার পাশের শপিংমলে আসতে বললেন।

সবসময় রোজার শেষ দিকে বউকে শপিংয়ে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু এইবার এত আগে! টিকলু ভাইয়ের বউ কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বেরিয়ে গেলেন।

রিকশা থেকে নেমেই দেখেন টিকলু ভাই মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে। তাঁকে দেখে তাঁর বউ মিষ্টি করে হাসি দিলেন। কিন্তু অহংকারী, ভাবধারী টিকলু ভাই সেই হাসি পাত্তা দিলেন না। তাই টিকলু ভাবি নিমিষেই সেই হাসি প্রত্যাহার করে ঠোঁট-মুখ স্বাভাবিক জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে এলেন।

রিকশা ভাড়া দেওয়ার পর বউকে নিয়ে টিকলু ভাই শপিংমলে প্রবেশ করলেন। প্রায় সব দোকানই ঘুরলেন। যে দোকানেই প্রবেশ করেছেন সময় নিয়ে ৫-৬ মিনিট বসলেন, নতুন নতুন কালেকশন দেখলেন। টিকলু ভাইয়ের আজকের ভাব দেখে তার বউ কেবলই অবাক হচ্ছেন, অন্যান্য বার কেনাকাটায় এলে এত সময় কখনো দেন না তিনি।

দিন শেষে মার্কেট থেকে বের হলেন তাঁরা। হাতে দুটো ছোট ব্যাগ। একটায় বউয়ের জন্য হাতের মেহেদি, আর আরেকটায় নিজের জন্য চুলের জেল।

এরপর রিকশা ধরে বাসায় ফিরছেন তাঁরা। গোমরা মুখে পাশে বসে আছেন তাঁর স্ত্রী।

কিছুক্ষণ পর তাঁর স্ত্রীর মুখ ফুটে কথা বের হলো।

—এইসবের মানে কী?

—কী করলাম?

—এই শপিংয়ের নামে অযথা টাইম লস করলা!

—আজব আমি একবার বলেছি যে শপিং করব? বলেছি মার্কেটে আসো।

—তা আসাটারই কোনো উদ্দেশ্য বুঝলাম না। সব দোকানে ঘুরলা। কিছুই নিলা না।

—আহ, বলেছি তো আমি কিনতে বা কিনে দিতে আসিনি। এরপর ও তো মেহেদি কিনে দিয়েছি।

—তো আসলেন কেন?

—এসির বাতাস খেতে। যা গরম আজ! অন্যসময় এমন বেশি গরম পড়লে তো পাশের রেস্তোরাঁতে যাই। কিন্তু রোজার মাস, বুঝোই তো। তাই ভাবলাম তোমাকে নিয়ে শপিং মলেও ঘুরি, একটু এসির বাতাসও খাওয়াই। কতদিন বাইরে তোমাকে ভালোমন্দ কিছু খাওয়াই না!