ষষ্ঠ অধ্যায় ঃ সুস্থ জীবনের জন্য খাদ্য
প্রশ্ন-১: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খাদ্য সংরক্ষণ বর্ণনা কর।
উত্তর: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণকরা যায়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খাদ্য সংরক্ষণের উপায়গুলি হচ্ছে-
১. খাদ্যের বৈশিষ্ট্য বা গুণাগুণ ঠিক রেখে খাদ্যদ্রব্যকে উচ্চতাপে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। যেমন- মুড়ি, খই, আমসত্ত্ব।
উচ্চ তাপে জীবাণু ধ্বংস করে বদ্ধ পাত্রে মাছ, মাংস, সবজি, ফল ইত্যাদি এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
বরফ জমানো ঠান্ডা তাপে খাদ্যে জীবাণু জন্মায় না। এভাবে মাছ, মাংস, মটরশুঁটি, গাজর, টমেটো, ঢেঁড়স, ইত্যাদি পাঁচ-ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
খুব ঠান্ডায় জমিয়ে গলদা চিংড়ি সংরক্ষণ করা হয়।
হিমাগারে দীর্ঘ সময়ের জন্য আলু, পিয়াজ, গাজর ইত্যাদি সংরক্ষণ করা হয়।
লবণ, চিনি, সিরকা ও তেলের মধ্যে পচনকারী জীবাণু জন্মাতে পারে না। তাই এসবের মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়।
প্রশ্ন-২: পরিমিত খাদ্য কী? পরিমিত খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন পরিমিত খাদ্য প্রয়োজন।
পরিমিত খাদ্যের সংজ্ঞা: দেহের চাহিদা মিটানোর জন্য যেসব খাদ্যে সঠিক পরিমাণে শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি উপস্থিত থাকে তাকে পরিমিত খাদ্য বলে।
পরিমিত খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা
১. পরিমিত খাদ্য দেহের কোষের গঠন ও বৃদ্ধি বজায় রাখে।
২. দেহ সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।
৩. দেহের অস্থি, পেশি, বিভিন্ন অঙ্গতন্ত্র ইত্যাদি কোষ গঠনে সহায়তা করে।
৪. রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে অংশগ্রহণ করে।
৫. দেহে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরে তাপ শক্তি যোগায়।
প্রশ্ন-৩: জাঙ্ক ফুড বলতে কী বুঝানো হয়, ব্যাখা কর।
উত্তর: যে কৃত্রিম খাদ্যে চর্বি, লবণ, কার্বনেট ইত্যাদি ক্ষতিকারক দ্রব্যের আধিক্য থাকে এবং যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তাকে জাঙ্ক ফুড বলে। জাঙ্ক ফুড আর্কষণীয় এবং তাত্ক্ষণিকভাবে খাওয়ার জন্য সুবিধাজনক। যেমন- আলুর চিপস, বার্গার, ক্যান্ডি, কোমল পানীয়, চকলেট ইত্যাদি বিভিন্ন কৃত্রিমজাতীয় খাদ্য হলো জাঙ্ক ফুড। উচ্চমাত্রায় মিষ্টিযুক্ত শস্যদানা; যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়। যেমন- ফ্রুট লুপ্স। এ ধরনের খাদ্যে উচ্চমাত্রায় চর্বি, লবণ বা চিনি থাকে। এতে সামান্য খাদ্য আঁশ থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে। তাই জাঙ্ক ফুড আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
প্রশ্ন-৪: খাদ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আমাদের জীবনে খাদ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব অনেক। খাদ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব নিম্নরূপ:
খাদ্যদ্রব্যকে পচন থেকে রক্ষা করে টাটকা ও তাজা রাখা যায়।
বছরের সবসময়ে সবরকম খাদ্যদ্রব্য পাওয়া যায়।
৩. ভবিষ্যতের খাদ্য চাহিদা পূরণ করা যায়।
৪. খাদ্যের অপচয় রোধ করা যায়।
৫.পরিবার ও দেশের ভবিষ্যত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
