প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি: বাংলা ও বিজ্ঞান

আপডেট : ০৫ মে ২০১৪, ১৯:৪০
‘হিমালয়ের শীর্ষে বাংলাদেশের পতাকা’ একটি অভিযানমূলক রচনা মো. সুজাউদ দৌলা প্রভাষক রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা হিমালয়ের শীর্ষে বাংলাদেশের পতাকা প্রশ্ন-১। ছেলেবেলায় মুসা ইব্রাহিমের মধ্যে কীভাবে এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন জেগেছিল? উত্তর: ‘হিমালয়ের শীর্ষে বাংলাদেশের পতাকা’ একটি অভিযানমূলক রচনা। এ রচনায় আমরা মুসা ইব্রাহিমের হিমালয় পাহাড় জয়ের কথা জানতে পারি। হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট। ছেলেবেলা থেকেই মুসার স্বপ্ন ছিল ঐ এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার। তাঁর বয়স তখন কেবল নয় বছর। বাবা মায়ের সঙ্গে ঠাকুরগাঁয়ে থাকেন। একদিন তাঁর বাবা তাঁকে ঐ শহরের একটা ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গেলেন। সেখান থেকে এভারেস্টের কিছু অংশ দেখা যায়। মনে হয় যেন হাত নেড়ে কাছে ডাকছে। মুসা তো দেখে অবাক! তাঁর ইচ্ছে হলো পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার। বুকের মধ্যে একটা স্বপ্ন ডানা মেলে উড়তে চাইল। এভাবেই মুসা ইব্রাহিমের এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন জেগেছিল। স্বপ্ন মানুষকে দুঃসাহসী করে তোলে। অজানার পথে ডাক দেয়। অজেয়কে জয় করতে শেখায়। প্রশ্ন-২। এভারেস্ট জয় করার জন্য মুসা কী রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন? উত্তর: ‘হিমালয়ের শীর্ষে বাংলাদেশের পতাকা’ রচনাটি একজন অসম সাহসী বীরের এভারেস্ট জয়ের কাহিনী। মুসা ইব্রাহিম ছেলেবেলা থেকেই এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু অজানাকে জয় করা অত সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়। বড় হয়ে মুসা ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে। এখান থেকে তিনি এভারেস্ট জয়ের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করলেন। মনে মনে ঠিক করলেন, পড়াশোনা শেষ করেই এভারেস্ট জয়ের অভিযানে বেরিয়ে পড়বেন। মুসা গড়ে তুললেন ‘নর্থ আলপাইন ক্লাব’। এই প্রতিষ্ঠানে পাহাড়ে ওঠার খুটিনাটি বিষয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিলেন। তারপর দু-একটা পাহাড়ে উঠে এভারেস্টে ওঠার প্রাথমিক প্রস্তুতি সেরে ফেললেন। এবার অর্থ সংগ্রহ করে পা বাড়ালেন এভারেস্টের চূঁড়ার দিকে। মুসা ইব্রাহিম এভাবেই এভারেস্ট জয়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। শুধু স্বপ্ন দেখলেই অজানাকে জয় করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন বাস্তব জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ। প্রশ্ন-৩। তিব্বতের নয়লামে ওঠার পর মুসার শারীরিক অবস্থা কেমন হয়েছিল? উত্তর: ছেলেবেলা থেকেই এভারেস্টে ওঠার স্বপ্ন ছিল মুসা ইব্রাহিমের। বড় হয়ে এই স্বপ্ন পূরণের অভিযানে বেরিয়ে পড়লেন। পা বাড়ালেন এভারেস্টের চূঁড়ার দিকে। তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে পৌঁছলেন তিব্বতের নয়লামে। স্থানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২ হাজার ফুট উঁচুতে। এই স্থানটি পৃথিবী পৃষ্ঠের মতো সাধারণ জায়গা নয়। মানুষ তো দূরের কথা অন্য প্রাণীরও বেঁচে থাকার উপযোগী নয়। এখানে মানুষের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন নেই। তাই অক্সিজেনের অভাবে মুসার প্রচন্ডভাবে মাথা ব্যথা শুরু হলো। এ কারণে মুসা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। প্রশ্ন-৪। ২০১০ সালের ১৪ই এপ্রিল তারিখটি মুসার কাছে কী কারণে বিশেষ একটি দিন বলে মনে হয়েছিল? উত্তর: পহেলা বৈশাখ বাঙালির নববর্ষের প্রথম দিন। এ দিন বাঙালি পুরাতনকে ভুলে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করে। আর এ দিনই মুসা এভারেস্টের খুব কাছে পৌঁছেন বলেই দিনটি তাঁর কাছে বিশেষ দিন বলে মনে হয়েছিল। প্রশ্ন-৫। মুসা ইব্রাহিম কতবার অভিযানে বিরতি দিয়েছিলেন এবং কেন? উত্তর: এভারেস্ট জয় করা ছিল যেমন কঠিন তেমনি দুর্লঙ্ঘনীয়। মুসা ইব্রাহিম তাঁর শারীরিক সমস্যা আর মাথা ব্যথার কারণে তিনবার অভিযানে বিরতি দিয়েছিলেন। এভারেস্টে অভিযান যত সহজ মনে করা হয় তত সহজ নয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে হওয়ায় সেখানে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করে। এ কারণে মুসার প্রথম বার মাথা ব্যথা শুরু হয়। তিনি অভিযানে বিরতি দিলেন। দ্বিতীয়বারও মুসার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাঁর ক্লান্ত শরীর, শক্তিও কমে গেছে। তাই অভিযানে বিরতি দিয়ে অগ্রবর্তী বেস ক্যাম্পে বিশ্রাম নিলেন। আর তৃতীয়বার তুষারপাতের কারণে অভিযানে বিরতি দিলেন। পাহাড় জয়ের পথে প্রধান বাঁধা হলো আবহাওয়া। সেখানে আবহাওয়াগত কারণে শারীরিক সমস্যাসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন-৬। কোনো কিছু জয় করার জন্য কিসের প্রয়োজন হয় সবচেয়ে বেশি? উত্তর: কোন কিছু জয় করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বপ্ন, প্রস্তুতি, অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাস। কারণ কোনো কিছু জয় করতে চাইলে প্রথমে থাকতে হবে স্বপ্ন বা ইচ্ছা। এরপর সে স্বপ্ন সফল করার জন্য প্রস্তুতি, বারবার চেষ্টা করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে গেলেই সে জয় লাভ করা সম্ভব। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে দেহ ভারী হয়ে পড়ে সি এম মিরাজুল ইসলাম প্রভাষক ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ষষ্ঠ অধ্যায় ঃ সুস্থ জীবনের জন্য খাদ্য সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর প্রশ্ন-১: খাদ্য কী? অথবা, খাদ্য কাকে বলে? উত্তর: যেসব দ্রব্য আমাদের শরীরের পুষ্টি সাধন করে, শরীর সুস্থ ও সবল রাখে তাকে খাদ্য বলে। প্রশ্ন-২: খাদ্যের উপাদান কয়টি ও কী কী? উত্তর: খাদ্যের উপাদান ৬টি। যেমন- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। প্রশ্ন-৩: অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে কী হয়? উত্তর: অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে দেহ ভারী হয়ে পড়ে। শিশুরা শারীরিক পরিশ্রম ও খেলাধুলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বড়দেরও কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়। প্রশ্ন-৪: সুষম খাদ্য কী? উত্তর: সুষম খাদ্য ঃ যেসব খাদ্যে পরিমাণমতো সব খাদ্য উপাদান যেমন- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন , খনিজ লবণ ও পানি থাকে তাকে সুষম খাদ্য বলে। প্রশ্ন-৫: খাদ্য গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা কী? উত্তর: সুস্থ সবল দেহ ও কাজ করার শক্তির জন্য সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রশ্ন-৬: প্রধান খাদ্য উপাদান কয়টি ও কী কী? উত্তর: প্রধান খাদ্য উপাদান ৩টি। যথা- শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ। প্রশ্ন-৭: প্রধান খাদ্য উপাদানসমূহ দেহের কী করে? অথবা, শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থকে খাদ্যের প্রধান উপাদান বলা হয় কেন ? উত্তর: প্রধান খাদ্য উপাদানসমূহ দেহের গঠন, বৃদ্ধি সাধন, ক্ষয়পূরণ ও তাপশক্তি যোগান দেয়। প্রশ্ন-৮: প্রতিদিন একজন মানুষের কতটুকু শক্তি প্রয়োজন? উত্তর: প্রতিদিন একজন মানুষের কতটুকু শক্তি প্রয়োজন তা নির্ভর করে মূলত বয়স, দেহের উচ্চতা ও দেহের ওজনের ওপর। তবে বেশি শারীরিক পরিশ্রম করলে বেশি শক্তি প্রয়োজন। প্রশ্ন-৯: খাদ্য সংরক্ষণ বলতে কী বুঝ? উত্তর: খাদ্যদ্রব্যকে টাটকা ও তাজা রাখার জন্য এবং খাদ্যকে পচনের হাত থেকে রক্ষা করে সারা বছর যাতে সব রকমের খাদ্য পাওয়া যায় তার ব্যবস্থা করাই খাদ্য সংরক্ষণ। রোদে শুকিয়ে, ফ্রিজে ও হিমাগারে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়। প্রশ্ন-১০: বিভিন্ন তরকারি, ফল ও মাছ, মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয় কেন? উত্তর: মাছ, মাংস, তরকারি ও ফলমূলে বেশি পানি থাকায় এদের শুধু রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায় না। তাই এগুলো ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যায়। কারণ ঠান্ডায় খাদ্যে জীবাণু জন্মায় না ফলে খাদ্যদ্রব্য বেশিদিন ভালো থাকে। প্রশ্ন-১১: খাদ্যদ্রব্যকে কীভাবে আকর্ষণীয় করা যায়? উত্তর: খাদ্য দ্রব্যকে আকর্ষণীয় করার জন্য কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। প্রশ্ন-১২:খাদ্যে সাধারণত কী কী রাসায়নিক দ্রব্য মিশানো হয়? উত্তর: খাদ্যে ক্যালসিয়াম কারবাইড, বিষাক্ত পাউডার, ফরমালিন ও স্যাকারিন এর মত রাসায়নিক দ্রব্য মিশানো হয়। প্রশ্ন-১৩: খাবারে কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মানুষের কী কী ক্ষতি হয়? উত্তর: খাবারে কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মানুষের লিভার ও কিডনি অকার্যকর, এজমা, শরীরের বৃদ্ধি হ্রাস ও ক্যান্সার হয়। প্রশ্ন-১৪: “জাঙ্ক ফুড” কী? উত্তর: জাঙ্ক ফুড হচ্ছে এক ধরনের কৃত্রিম খাদ্য যাতে চর্বি, লবণ, কার্বনেট ইত্যাদি ক্ষতিকারক দ্রব্যের আধিক্য থাকে। এ ফুড স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আলুর চিপস, বার্গার, চকলেট ইত্যাদি হচ্ছে জাঙ্ক ফুড। প্রশ্ন-১৫: খাদ্যে সাধারণত কী কী কৃত্রিম রং ও দ্রব্যদি মিশানো হয়? উত্তর: খাদ্যে সাধারণত কৃত্রিম রং, ইটের গুঁড়া, রঙিন কাঠের গুঁড়া, কাপড়ের রং, ধূলা, কৃত্রিম মিষ্টিদ্রব্য ইত্যাদি রং ও দ্রব্যাদি মিশানো হয়। প্রশ্ন-১৬: রোদে শুকিয়ে কোন কোন খাদ্য সংরক্ষণ করতে হয়? উত্তর: ধান, চাল, গম, ডাল মাছের শুঁটকি, ফলের আচার, মোরব্বা ইত্যাদি খাদ্য রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। প্রশ্ন-১৭: কোন কোন খাদ্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়? উত্তর: মাছ, মাংস, তরকারি, ফল ইত্যাদি ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়। প্রশ্ন-১৮: কোন কোন খাদ্যে কৃত্রিম রং মিশানো হয়? উত্তর: চাল, ডাল, হলুদ, মরিচ, মাছ, মিষ্টি, ফল, পানীয় ইত্যাদিতে কৃত্রিম রং মিশানো হয়। প্রশ্ন-১৯: কতগুলি জাঙ্ক ফুডের নাম লিখ। উত্তর: বার্গার, পেটেটো চিপস, চকলেট, কোমল পানীয় ইত্যাদি।