সেই কবেকার কথা। প্রায় ২০ বছর। শুরুতে কত মধুর সম্পর্ক। অথচ সেই সম্পর্ক আজ কতটা পুরোনো, যেন অচেনা! সন্তানদের প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। একাকিত্ব কাটাতে প্রায় অচেনা হয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষটিকে কী করে কাছে টানবেন তা জানাচ্ছেন ফয়জুল আল আমীন
আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর আগে মিলন ও তাহমিনার দাম্পক্য সম্পর্কের শুরু। গত সপ্তাহে তাদের একমাত্র সান্তান রিংকি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে যুক্তরাজ্যে চলে গিয়েছে। বাড়িতে মানুষ বলতে শুধু মিলন আর তার স্ত্রী তাহমিনা। তাদের ২০ বছরের দাম্পত্যের ১৮ বছর জুড়েই ছিল মেয়ে রিংকি। এক রাতের জন্যও যে মেয়েটি মা-বাবাকে ছেড়ে কোথাও যায়নি। অথচ হঠাত্ করেই আজ কত বড় পরিবর্তন। এ পরিবর্তনে মিলন আর তাহমিনার মনে হচ্ছে কত কাল পরে, যেন দু’জনের দেখা হয়েছে। যদিও এ দীর্ঘ সময়েও দু’জনেই দু’জনের পছন্দ-অপছন্দ, আনন্দ-বেদনা, আসক্তি-বিরক্তি সবই বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু তবুও যেন তাদের মধ্যে বিশাল এক অদৃশ্য দূরত্ব। যে দূরত্বটা রিংকি নিজের অজান্তেই তৈরি করে রেখে গেছে। যে দূরত্ব ঘুচিয়ে তারা ঠিক কীভাবে একে অপরের কাছাকাছি আসবে বুঝতে পারছেন না। অথচ দু’জনেই মনে-প্রাণে পুরোনো সম্পর্কের নতুন রূপ দিতে পারেন খুব সহজেই। তবে এক্ষেত্রে তাদের যা করণীয় তা নিচে তুলে ধরা হলো।
নতুন কিছু ভাবতে শিখুন
মনে মনে আনন্দিত হউন। কারণ একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর এটাই যে সবচেয়ে ভালো সময়। অযথা এদিক সেদিকে ঘোরাঘুরি কমিয়ে দিন। সাংসারিক টেনশন কমিয়ে দিন। সময় ও সুযোগের অভাবে আগে যা যা এক সঙ্গে করতে পারেননি, এখন সেগুলো চুটিয়ে করুন। প্রভাবিত করুণ যেন স্বামীও সেই সময়টা দেয়। সব সময় নিজের পছন্দের কাজ করতে চাইবেন না। মনে করুন, আপনি বেড়াতে খুব পছন্দ করেন, কিন্তু আপনার সঙ্গী তা পছন্দ করে না, এক্ষেত্রে তাকে বেড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করবেন না। অর্থাত্, এমন কিছু করুন যা দু’জনেই উপভোগ করতে পারেন।
দাম্পত্য পুরোনো হওয়ার অজুহাতে স্বামীকে শুধুই অভিভাবক বা আশ্রয় হিসেবে ভাববেন না। বরং এখনও তাকে একটু বেশিই গুরুত্ব দিন। এতে সম্পর্ক আরও গভীর ও মধুর হয়ে উঠবে।
নিজেদের পছন্দের ছবিগুলো একসঙ্গে বসে দেখুন আবারও। বিভিন্ন প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে যান। সম্পর্কের শুরুতে যেমন প্রেক্ষাগৃহের অন্ধকারে দু’জনে দু’জনের হাত ধরে বসে থাকতেন, সেই অভ্যাসটা নতুন করে চর্চা করতে পারেন।
এমনটি খুবই স্বাভাবিক যে সময়ের সমান্তরালে সম্পর্কের রং বদলায়। কিন্তু এই পরিবর্তনটাকে অবশ্যই উদারভাবে গ্রহণ করতে হবে। বর্তমানের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে।
মনে রাগ, ক্ষোভ, অভিমান পুষে রাখলে নিজেকেই কষ্ট পেতে হয়। তাই কখনও এমনটি করা যাবে না। কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য সৃষ্টি হলে তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন।
নিজের ভালোবাসা বা অনুরাগ সঙ্গীর নিকট কখনও গোপন না করে, অকপটে তা প্রকাশ করুন। সঙ্গীকে কেন ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন সেটাও তাকে জানিয়ে দিন। সবসময় এমনটি ভাবতেই নেই যে, সঙ্গীটি নিজ থেকেই আপনার মনের কথা বুঝে নিবেন।
কোনো যুক্তিতেই সম্পর্কের মধ্যে ‘ইগো’কে মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ দেবেন না। মনে রাখবেন, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সর্বোত্তম পন্থা হলো বিনয়ী ও নম্র থাকা।
কখনও ভুল বুঝাবুঝি কিংবা কথা বন্ধ—যাই হোক না কেন, বেশিদিন টানা উচিত নয়।
সঙ্গীকে ছোট্ট কোনো উপহার দিয়ে নিজের ভালোবাসা জানান। এতে করে আপনার সঙ্গীটি পুরোনো দাম্পত্যে নতুনত্বের ছোঁয়া উপভোগ করবেন।
অবশ্যই মনে রাখবেন
দ্বিতীয়বারের মতো হানিমুনে যাওয়ার এটাই মোক্ষম সুযোগ। বেড়াতে যান নতুন কোনো স্থানে। তবে বেড়াতে গিয়ে শুধুই দৃশ্য দেখায় মগ্ন হয়ে পড়বেন না, সঙ্গীর প্রতি খেয়াল রাখুন। খুঁজে নিন রোমান্স। বিশেষ কোনো এক মুহূর্তে স্বামীকে দেওয়ার জন্য সুন্দর একটা উপহার আগে থেকেই সঙ্গে করে নিয়ে যান।
মডেল বাপ্পি ও মাহি ছবি আশীষ সেনগুপ্ত
