পথ ধরে যাচ্ছিলেন এক ভদ্রলোক। হঠাত্ দেখলেন, ছোট্ট একটা ছেলে মাথায় লাল টুপি আর লাল পোশাক পরে কী যেন খেলছে। ছেলেটার কাঁধে একটা ছোট মই। হাতে দড়ি। দড়ির অপর প্রান্ত একটা কুকুরের লেজের সঙ্গে বাঁধা।
ভদ্রলোক :খোকা, কী খেলছ?
খোকা :দেখছেন না, আমি একজন দমকলকর্মী। আর এই কুকুরটা, এটা আমার গাড়ি।
ভদ্রলোক :বাহ্! খুব ভালো। তবে আমার মনে হয়, তুমি যদি দড়িটা লেজে না বেঁধে গলায় বাঁধতে, তাহলে তোমার গাড়িটা দ্রুত চলত।
ভদ্রলোক :তা ঠিক বলেছেন। তবে তখন আর দড়ি ধরে টানলেই সাইরেন বাজত না!
দীর্ঘক্ষণ ধরে একটা পোট্রেট আঁকায় মনোনিবেশ করতে চেষ্টা করছেন শিল্পী হরিপদ। কিন্তু মডেল ছেলেটা এত নড়াচড়া করছে, বারবারই তার মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটছে। একসময় রেগেই গেলেন হরিপদ। আঁকার চেয়ার থেকে উঠে মডেল ছেলেটার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং চটাস করে ছেলেটার গালে একটা চড় বসিয়ে দিলেন!
হতভম্ব হয়ে ছেলেটা বলল, ‘আপনি বুঝি আপনার সব মডেলকেই এভাবে মারেন?’
হরিপদ বললেন, ‘কখনোই না। এর আগে আমি চারটা মডেলের ছবি এঁকেছি। তারা কেউই তোমার মতো নড়াচড়া করেনি।’
ছেলেটা একটু মন খারাপ করে বলল, ‘কোন মডেলের ছবি এঁকেছেন, দেখি।’
হরিপদ একটা থালা, দুটো গ্লাস, একটা আধ খাওয়া পেঁপে আর একটা ফুলদানির ছবি বের করে দেখালেন!
টেলিফোন বেজে উঠল পুলিশ অফিসে। রিসিভার তুলতেই শোনা গেল, ‘বাঁচান! বাঁচান!’
‘এক্ষুনি রওনা হচ্ছি। কী হয়েছে, বলুন।’
‘ঘরে বেড়াল ঢুকেছে,’ উত্তর এল অপর প্রান্ত থেকে।
‘এই ফালতু কারণে পুলিশকে কেউ জ্বালাতন করে! কে আপনি?’
‘তোতাপাখি।’
