ভিলারিয়াল দর্শকের কলা ছুঁড়ে মারা, ড্যানিয়েল আলভেজের সেই কলা খেয়ে বর্ণবাদ বিরোধী নতুন সামাজিক আন্দোলনের শুরু করা কিংবা সেই বর্ণবাদী আচরণের দায়ে সেই দর্শকের গ্রেফতার; এসবই পুরনো খবর। নতুন বিষয় হচ্ছে, ডেভিড ক্যামপাইয়ো লিও নামে সেই দর্শকের প্রতি আইনের দৃষ্টিকে আরো সহনশীল হতে অনুরোধ জানিয়েছেন আলভেজ নিজেই। গতকাল সম্প্রচার মাধ্যম গ্লোবোকে নিজেই একথা জানিয়েছেন বার্সেলোনার এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। আলভেজ বলেন, ‘(এ ঘটনায়) হয়তো তার শাস্তিই প্রাপ্য তবে খারাপ কাজকে আরেকটি খারাপ কাজ দিয়ে মোকাবেলা করাটা আমার পছন্দ নয়। আমার মনে হয় মানুষকে শেখানোর কোন বিকল্প নেই। তাই আপনি সেটা এভাবে করতে পারবেন না।’
তার প্রতি ডেভিডের আচরণকে অন্যায় বলে মেনে নিলেও ক্ষমার মহান পথেই হাঁটছেন আলভেজ। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলের অন্যতম ভরসা এই ফুলব্যাক বলেন, ‘যিনি ক্ষমা করতে পারেন তিনিই সবচেয়ে শক্তিশালী।’
আর তাই কারা অভ্যন্তরে ডেভিডের করুণ দিন যাপনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি আলভেজের ভাবনায় তার পরিবারের কথাও, ‘তার একটা পরিবার আছে এবং সেই পরিবারকে যে কোন উপায়ে তার সাহায্য করতে হয়।’
তবে আলভেজ ক্ষমা করে দিলেও এত সহজে পার পাচ্ছেন না ডেভিড। ২৬ বছর বয়সী এই সমর্থককে এরই মধ্যে নিজেদের স্টেডিয়াম এল মাদ্রিগাল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে ভিলারিয়াল। স্প্যানিশ গণমাধ্যম বলছে, ঐ ঘটনার আগে ভিলারিয়ালের যুব পর্যায়ের একটি দলে কর্মরত ডেভিড হারিয়েছেন সেই চাকরিটিও। যদিও, এ সম্পর্কে কিছু ভিলারিয়ালের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে আলভেজের জন্য হয়তো আরো বড় শাস্তিই অপেক্ষা করছে। ‘বর্ণবাদ উস্কে দেয়ার পক্ষে ঐ আচরণ কাজ করেছে’, এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক থেকে তিন বছরের কারাবরণ করতে হতে পারে ডেভিডকে। উল্লেখ্য, ডেভিডের নিক্ষিপ্ত কলা খেয়ে ফেলে সাথে সাথেই বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অভিনব এক প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন আলভেজ। এর একদিন পরেই নেইমার, ডেভিড লুইজ, অস্কারের মতো স্বদেশী ফুটবলারের পাশাপাশি লুইস সুয়ারেজ, মারিও বালোতেল্লির মতো ভীনদেশী তারকাকেও পাশে পান আলভেজ। আলভেজের প্রতিবাদকে অসাধারণ শক্তিশালী বলে আখ্যায়িত করে তার পাশে দাঁড়ান ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফও।
এদিকে, ঐ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঐ একই কারণে স্প্যানিশ ফুটবল গত রবিবার রাতে আবারও কলঙ্কিত হয়েছে। লেভান্তের সেনেগালিজ মিডফিল্ডার পেপে দিউপ অভিযোগ করেছেন, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা বানরের ডাক ডেকে উত্যক্ত করেছেন তাকে।
