শস্য

বোরো ধান

আপডেট : ২৫ মে ২০১৯, ১৯:৩৭

 

বোরো বাংলাদেশের ধানের একটি জাত। উত্পাদনের সময়ের ওপর নির্ভর করে ধানের প্রধান যে তিনটি শ্রেণিভেদ করা হয়, বোরো তাদের অন্যতম। বোরোর মৌসুম শুরু হয় আমনের মৌসুম শেষ হবার পরে। ধান রোপণ শুরু হয় কার্তিক (অক্টোবর-নভেম্বর) মাস থেকে এবং ধান কাটা চলে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ (এপ্রিল-জুন) পর্যন্ত। হেমন্তকালের শুরু থেকে গ্রীষ্মকালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ধানের সময় চলে এবং এই ধানের মূল ফলন বসন্তকালে হয় বলে একে বাসন্তিক ধান বলেও ডাকা হয়ে থাকে। বোরো ধান যে সময়ে জন্মায় সে সময়ে বৃষ্টিপাত সাধারণত কম হয়। তাই বোরো ধান সেচের ওপরে বহুলাংশে নির্ভরশীল। বোরো ধান চাষে সার ও পরিচর্যা ব্যবস্থাপনা বোরো ধানের বীজতলা থেকে শুরু করে রোপণ পর্যন্ত একটা বৈরী পরিবেশের মধ্য দিয়ে যায় বলে, বিশেষ কিছু পরিচর্যা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। না হলে বোরোর ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়। বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ে। অন্যদিকে জমিতে ফলন ঠিক রাখার জন্য ধান চাষের আগে-পরে বা পাশাপাশি অন্য জাতের ফসলও চাষ করতে হয়। এতে ধান রোপণের আগে বা কাটার পর মধ্যবর্তী সময়ে স্বল্প সময়ের জন্য একটি ফসল চাষ করলে জমির উর্বরতা রক্ষা করা যায়।

বোরো চাষের আগে যদি আলু, সরিষা বা শিমজাতীয় শস্য চাষ করে নেওয়া যায় এবং বোরো চাষের পর ধৈঞ্চার চাষ করে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে জমির স্বাস্থ্য ঠিক থাকে। কারণ এসব ফসলে সার প্রয়োগ যথাযথভাবে করা হয় ভালো ফলনের জন্য, যা পরবর্তী বোরোর জন্যও কাজে লাগে। জমিতে জৈব পদার্থ যোগ হয়ে জমির উর্বরতা রক্ষা পায়, জমিতে প্রয়োগ করা রাসায়নিক সারের গ্রহণ যথাযথ হয় এবং রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে জমিতে তৈরি হওয়া বিষ কমে যায়।

সেচ সুবিধাপ্রাপ্ত উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমির জন্য বোরো চাষের বিভিন্ন শস্যবিন্যাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—১. বোরো (বিআর ২৬), রোপা আমন (ব্রিধান ৩২), সরিষা (টরি ৭); ২. বোরো (বিআর ২৬), রোপা আমন (ব্রিধান ৩২), সবুজ সার (শনপাট); ৩. বোরো (ব্রিধান ২৮), গিমাকলমি, রোপা আমন (ব্রিধান ৩২); ৪. বোরো (বিআর ৩), পতিত-রোপা আমন (বিআর ১১); ৫. বোরো (বিআর ২৬), রোপা আমন (ব্রিধান ৩২), সবজি (মটরশুঁটি/ঝাড়শিম); ৬. অঙ্কুরিত বোনা বোরো (ব্রিধান ২৬), সবুজ সার,  রোপা আমন (বিআর ১১)।