গোটা বিশ্বই এখন প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়েই যেন চলছে। তাতে করে ক্রমেই বিশ্বের আরও বেশি বেশি জনগোষ্ঠী সংযুক্ত হয়ে চলেছে ইন্টারনেটে। একটা সময় পর্যন্ত উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ইন্টারনেটের ব্যবহারকারী অনেকটা সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন উন্নয়নশীল দেশগুলো এবং অনুন্নত দেশগুলোর মানুষেরাও ইন্টারনেটে যুক্ত হচ্ছে। তাতে করে ইন্টারনেটের ব্যবহারকারীর সংখ্যা গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়ে চলেছে। এর আগেই এই সংখ্যা বিশ্বব্যাপী পেরিয়ে গেছে ২ বিলিয়ন বা দুইশ কোটির ল্যান্ডমার্ক। জাতিসংঘের প্রযুক্তি এবং টেলিকম বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) জানাচ্ছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩ বিলিয়ন বা তিনশ কোটিতে পৌঁছাবে। আর এই বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর দুই-তৃতীয়াংশই হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর। ইন্টারনেটের ব্যবহারকারীর পাশাপাশি মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যাও বাড়ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। আইটিইউয়ের হিসাবে, এ বছরের শেষ নাগাদ মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে ৭ বিলিয়ন বা সাতশ কোটি। অর্থাত্ মোবাইল ফোনের গ্রাহকের পরিমাণ বিশ্বের জনসংখ্যাকে বলতে গেলে ছুঁয়ে ফেলবে। জাতিসংঘের এই সংস্থাটি জানায়, ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বের প্রায় ৪৪ শতাংশ বাড়িতে পৌঁছে যাবে ইন্টারনেট সংযোগ। এক্ষেত্রে অবশ্য বড় ব্যবধানেই এগিয়ে থাকছে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো। এসব দেশে যেখানে এই শতকরা হার ৭৮ শতাংশ, সেখানে উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৩১ শতাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ। তবে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে দ্রুতই ইন্টারনেটে সংযুক্ত হওয়ার প্রবৃদ্ধি সম্পৃক্ত মাত্রায় পৌঁছে যাবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। তাতে করে আগামী দিনে ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়ার হার বৃদ্ধি পাবে মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই। মোবাইল ফোনের সংযোগের ক্ষেত্রে অবশ্য এগিয়ে রয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলোই। ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ মোবাইল ফোনের যে সাতশ কোটি গ্রাহক থাকবে, তার অর্ধেকেরও বেশি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের। আর মোবাইল ফোনের গ্রাহকদের প্রায় ৭৮ শতাংশই উন্নয়নশীল দেশগুলোর। আইটিইউয়ের সেক্রেটারি জেনারেল হামাদুন তোরে নতুন এই প্রতিবেদন সম্পর্কে বলেন, ‘নতুন প্রকাশিত এসব সংখ্যা থেকে এটি স্পষ্ট যে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ামক। এটি বিশ্বব্যাপী মানুষকে সংযুক্ত করে তাদের জীবনযাত্রায় তাত্পর্যপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসতে ভূমিকা রেখে চলেছে।’
