ডিজিটাল স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তা

আপডেট : ০৬ মে ২০১৪, ২০:০৫
ডিজিটাল স্বাক্ষর হলো এমন একটি গাণিতিক পদ্ধতি (mathematical scheme) যার মাধ্যমে একটি ডিজিটাল সবংংধমব, ফড়পঁসবহঃ বা যেকোনো ডাটাকে শনাক্ত করা যায়। যখন ব্যবহারকারী একটি ইমেইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠায় তখন হাজার হাজার সার্ভার ঘুরে মেইলটি গন্তব্যে পৌঁছায়। গতিপথের প্রত্যেকটি সার্ভারে এক-একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে। Script, virus, hacker এবং অন্যান্য ডিভাইস এখানে অনুপ্রবেশ করে তথ্য কপি করতে পারে এবং অজান্তেই পরিবর্তন করতে পারে। শুধু ইমেইল না, অনলাইনে লেনদেন করতে হলে দরকার এমন ব্যবস্থা যাতে অনলাইনে তথ্য প্রদানকারী, আবেদনকারী সবার পরিচয় ‘প্রমাণযোগ্য’ এবং নিশ্চিত হয়; একজনের শনাক্তকরণ চিহ্ন যাতে অন্যজন ব্যবহার করতে না পারে এবং সেইসাথে যেন থাকে তথ্য/পরিচিতি হাতছাড়া না হওয়ার নিশ্চয়তা। এসব কিছুর একটি সহজ সমাধান হলো ইলেক্ট্রনিক বা ডিজিটাল স্বাক্ষর। ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতির কার্যক্রম নিরাপত্তার নিশ্চিতকরণে বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত ও স্বীকৃত প্রযুক্তি হিসেবে বাংলাদেশে তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল সার্টিফিকেট ব্যবস্থা স্থাপন করে। তথ্যপ্রযুক্তি (সার্টিফিকেট প্রদারকারী কর্তৃপক্ষ) বিধিমালা ২০১০-এ ইলেক্ট্রনিক সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রক হিসেবে Controller of Certifying Authority (CCA) স্থাপন করা হয়। CCA বাংলাদেশের Public Key Infrastructure-এ Root CA হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে। ডিজিটাল সার্টিফিকেট ডিজিটাল সার্টিফিকেট হলো তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে দাতা কিংবা গ্রহীতা অথবা উভয় প্রান্তে ব্যবহূত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের একটি ইলেক্ট্রনিক প্রত্যয়ন ব্যবস্থা। অনলাইনে ডিজিটাল সার্টিফিকেট প্রদর্শন করে আশ্বস্ত হওয়া যায় যে, সেবাগ্রহণের সময় সেবাদাতা সংস্থার কোনো ত্রুটির জন্য তার কোনো তথ্য পাচার হয়ে যাবে না। ডিজিটাল স্বাক্ষর ডিজিটাল স্বাক্ষর হলো তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় যাচাইয়ের একটি পদ্ধতি। এটি নিশ্চিত করে তথ্যটি যিনি পাঠিয়েছেন তার সেটি পাঠানোর কর্তৃত্ব (Authenticity) আছে কি না, যাত্রা পথে তথ্যটিতে কোনো পরিবর্তন (Integrity) হয়েছে কি না। বাংলাদেশে ডিজিটাল স্বাক্ষর-ব্যবস্থা আমাদের তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন ২০০৯-এ ‘ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর’ অর্থ ইলেক্ট্রনিক আকারে কোনো ডকুমেন্ট যা— ক) অন্য কোনো ডকুমেন্টের সাথে সরাসরি বা যৌক্তিকভাবে সংযুক্ত খ) কোনো ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষরের প্রমাণিকরণ নিম্নবর্ণিত শর্তাদি পূরণক্রমে সম্পন্ন হয়— (অ) যা স্বাক্ষরদাতার সাথে অনন্যরূপে সংযুক্ত হয়; (আ) যা স্বাক্ষরদাতাকে শনাক্ততকরণে সক্ষম হয়; (ই) স্বাক্ষরদাতার নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে এমন নিরাপদ পন্থায় যার সৃষ্টি হয়; (ঈ) সংযুক্ত ডকুমেন্টের সাথে এমনভাবে সম্পর্কিত যে পরবর্তীতে উক্ত ডকুমেন্টে কোনো পরিবর্তন শনাক্তকরণে সক্ষম হয়। দোহাটেক সিএ ডিজিটাল সার্টিফিকেট প্রবর্তনের নিমিত্তে ২০১১-তে Dohatec New Media-কে Certifying Authority License প্রদান করা হয় এবং Dohatec Certifying Authority বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ই-সাইন নামে ডিজিটাল সার্টিফিকেট প্রদান করে যাচ্ছে। দোহাটেক সিএ ডিজিটাল সার্টিফিকেট প্রাপ্তির পদ্ধতি ডিজিটাল সার্টিফিকেট দুইভাবে গ্রহণ করা যায়—সফট টোকেনের মাধ্যমে এবং হার্ড/ক্রিপ্টো টোকেনের মাধ্যমে। ক্রিপ্টো/হার্ড টোকেন দেখতে ফ্ল্যাশ বা ইউএসবি ড্রাইভের মতো, যা কম্পিউটার বা ল্যাপটপের ইউএসবি পোর্টে সংযুক্ত করতে হয়। টোকেন ব্যবহারের জন্য এর ড্রাইভার সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হয়। ড্রাইভারটি ইন্সটল করা হলে আপনাকে আপনার টোকেনটি ইনিশিয়ালাইজ করতে হবে। টোকেন ইনিশিয়ালাইজ করার সময় আপনাকে পিন বা পাসওয়ার্ড দিতে হবে, যা টোকেনের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে। উপর্যুক্ত দুই পদ্ধতিতেই ডিজিটাল সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য একটি বৈধ সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের ফরম পূরণ করে আপনাকে সিএর ওয়েবসাইটে ডিজিটাল সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে হবে। লেখক :সিইও, দোহাটেক নিউ মিডিয়া লিমিটেড