ঢাকা মেডিক্যালে ইন্টার্নি ও ঢাবি শিক্ষার্থী সংঘর্ষ

আপডেট : ০৬ মে ২০১৪, ২৩:১৫
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিত্সকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার প্রায় তিন ঘন্টা হাসপাতালের চিকিত্সা সেবা বন্ধ ছিল। ইন্টার্ন চিকিত্সকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে (দর্শনার্থী) মারধর করলে শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাংচুর চালায়। প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিত্সকরাও হাসপাতালের ভিতর লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা হাসপাতালের সকল গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চিকিত্সা সেবা বন্ধ করে দেয়। এসময় ইন্টার্ন চিকিত্সকরা কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে একটি ক্যামেরা ভাংচুর করে। অন্যদিকে বারডেম হাসপাতালে অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে গতকাল চিকিত্সকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সকদের লিফটে ওঠাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। বেলা সাড়ে ১১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শহিদুজ্জামান মিরাজ মেডিক্যাল কলেজের নতুন ভবনের দশম তলায় চিকিত্সাধীন তার মা সেলিনা বেগমকে দেখতে যান। এসময় মিরাজের সাথে তার বড় ভাই লিমন ও ঢাবির দুই শিক্ষার্থী জনি ও শরীফ ছিলেন। তারা লিফটে চড়ে ভবনের সপ্তম তলায় গেলে লিফট থামলে কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিত্সক মিরাজসহ অন্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নেমে যান, এখনি নামেন। সিঁড়ি দিয়ে যান। এটা ডাক্তারদের লিফট।’ তারা নামতে অস্বীকৃতি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিত্সকরা জনি ও শরিফকে মারধর করেন। সংবাদ পেয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে মিরাজসহ ইন্টার্ন চিকিত্সকদের মধ্যে সমঝোতার জন্য তাদেরকে ভবনের পঞ্চম তলায় নিয়ে যান। সেখানে ইন্টার্ন চিকিত্সকরা মিরাজ ও তার ভাইকে লাঞ্ছিত করে। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় উভয় পক্ষের মধ্যে। দুপুর সোয়া একটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাংচুর চালায়। এসময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে। আতঙ্কে সকলে বিভিন্ন দিকে ছোটাছুটি শুরু করেন। ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের জন্য এসময় সাংবাদিকরা সেখানে আসলে ইন্টার্ন চিকিত্সকরা চড়াও হয় সাংবাদিকদের ওপরও। দুপুর পৌনে ২টার দিকে হাসপাতালের সাতটি গেইটই বন্ধ করে দেয় ইন্টার্ন চিকিত্সকরা। বিকেল চারটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে হাসপাতালের সকল ফটক। এসময় বাইরে থেকে কোন রোগী প্রবেশ কিংবা হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর স্বজনসহ অন্যরা বাইরে যেতে পারেনি। বেলা ৩টার দিকে হাসপাতালে জরুরি বৈঠকে বসেন বিএমএ’র মহাসচিব ডা. ইকবাল আর্সেনাল, ডিএমসি’র শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ ফকির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্টসহ ডিএমসির অন্যান্য পরিচালকরা। বিকাল সোয়া চারটার দিকে ডা. ইকবাল আর্সেনাল এবং পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শিবলী নোমান সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ঢাবি’র দুই শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে খুলে দেয়া হয় হাসপাতালের সকল ফটক। ইন্টার্ন চিকিত্সকসহ সকল চিকিত্সকরা ফিরে যান তাদের কাজে। এদিকে, রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে চিকিত্সকদের সাথে রোগীর স্বজনদের। নিহতের মেয়ের জামাই সোহেল আহমেদ অভিযোগ করেন, কর্তব্যরত নার্সদের অবহেলায় মারা যান তার শ্বশুর সাদেক ভুঁইয়া (৬০)। তিনি জানান, তার শ্বশুর একজন ডায়াবেটিস রোগী ছিলেন। এরকম একজন রোগীকে অস্ত্রোপচারের আগে যেভাবে ওষুধ দেয়ার কথা নার্সরা সেভাবে তা না দেয়ায় তিনি মারা যান। সাদেক ভুঁইয়ার মৃত্যুর জন্য নিহতের স্বজনরা নার্সদের অবহেলাকে দায়ী করলে একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত চিকিত্সকদের সাথে প্রথমে বাকবিতন্ডা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে হাসপাতালের পরিচালক ডা.নাজমুন নাহার ও নিহতের দুই ছেলে ঘটনার মীমাংসা করেন।