এবারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি সফলভাবে ড্যাফোডিল স্পাই কোয়াড কপ্টার/হেলিক্যামের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব মাহামুদের নেতৃত্ব ও নাহিদ ফেরদৌসের সহযোগিতায় উত্সাহী একদল তরুণের নিরলস প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এ ড্যাফোডিল স্পাই কোয়াড কপ্টার/হেলিক্যাম তৈরি করে। প্রকল্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডিআইইউয়ের আন্তজার্তিক বিষয়ক কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হান-উল-ইসলাম। রাজধানীর কলাবাগান মাঠে গত ৫ মে এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফজলুল হক, পরিচালক (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) অধ্যাপক ড. মো. ফখরে হোসেন, ইলেক্ট্রিকাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. মো. ফয়জুর রহমান ও মিডিয়া ল্যাব ইনস্ট্রাক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা। এ প্রকল্পের প্রধান হাসিব মাহমুদ জানান, স্পাই কোয়াড কপ্টার/হেলিক্যাম যেকোনো দুর্ঘটনা বা অগ্নিকবলিত উঁচু ভবনে যেখানে শারীরিকভাবে মানুষ পৌঁছতে অক্ষম সেখানে সহজেই কার্যক্রম চালাতে সক্ষম। এই হেলিক্যাম ভিডিও ক্যামেরার সাহায্যে অপ্রবেশযোগ্য দুর্গম স্থানের অভ্যন্তরের ভিডিও ধারণ করে পাঠাতে সক্ষম বলেও জানান তিনি। হাসিব মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের হাতে তৈরি হেলিক্যামটি সর্বোচ্চ ২.৫-৩ কেজি ওজনসহ ১২ থেকে ১৫ মিটার উড়তে সক্ষম। এটি ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ ভ্রমণ করতে পারে। এতে নাইট ইন্ডিকেটর থাকায় রাতেও একে ব্যবহার করা সম্ভব।’ প্রকল্প সমন্বয়কারী সৈয়দ রায়হান-উল-ইসলাম বলেন, ‘এই স্পাই কোয়াড কপ্টার/হেলিক্যামটি একটি রিমোট নিয়ন্ত্রিত মিনি হেলিকপ্টার যা উড়ন্ত অবস্থায় স্থাপত্য/ভবন, দুর্ঘটনা অবস্থান বা পুনরায় সৃষ্ট স্থাপত্য, ক্ষতিগ্রস্থ স্থাপনা, উদ্ধার অনুসন্ধান, নজরদারি, পরিদর্শন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বিভাগের তদন্ত, ফিল্ম তৈরি, ফটোগ্রাফিসহ গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যাবে।’ ১০ মিনিট উড়ার পর এই হেলিক্যাম প্রকল্প দলের সদস্যরা তাদের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা এবং অটোনোমাস, ওয়েব পয়েন্ট ডিরেকশন, জিপিএস ট্র্যাকিং ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। হেলিক্যাম প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিত্যনতুন উদ্ভাবন, গবেষণা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সবসময় উত্সাহ ও অনুপ্রেরণা যুগিয়ে আসছে। এ ধরনের গবেষণায় প্রচুর অর্থ ব্যয় হলেও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি বরাবরই এ ধরনের সৃজনশীল গবেষণা ও উদ্ভাবনে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে আসছে। তবে এসব গবেষণায় সরকারি অনুদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
