ন্যাটোর সঙ্গে জাপানের নতুন সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর

আপডেট : ০৭ মে ২০১৪, ২১:২৮
চীনের সঙ্গে দ্বীপ নিয়ে বিরোধ ও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ চুক্তি করেছে জাপান চীনের বাড়তে থাকা সামরিক ব্যয় ও দেশটির সঙ্গে দ্বীপ নিয়ে বিরোধে উদ্বিগ্ন জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে ন্যাটোর সঙ্গে নতুন সহযোগিতা চুক্তি সই করেছেন। মঙ্গলবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সংস্থাটির সদর দপ্তর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই চুক্তিতে সই করেন। ন্যাটোর পক্ষে চুক্তিতে সই করেন এর মহাসচিব জেনারেল আন্ডার্স ফগ রাসমুসেন। এই চুক্তির আলোকে জলদস্যুতা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে পশ্চিমা সামরিক জোটটির সঙ্গে জাপানের সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার হবে। পরিদর্শনকালে ন্যাটোর ২৮টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এরপর রাসমুসেনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অ্যাবে, ইউক্রেনের পরিস্থিতি, যেখানে রাশিয়া ক্রিমিয়া অংশটিকে বিচ্ছিন্ন করে নিজের অংশ করে নিয়েছে, তার সঙ্গে পূর্ব চীন সাগরে চীনের সঙ্গে দ্বীপ নিয়ে বিরোধের তুলনা করেন। পূর্ব চীন সাগরের মানব বসতিহীন ওই দ্বীপগুলো চীনে দিয়াইয়ু ও জাপানে সেনকাকু নামে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে চীনের সঙ্গে জাপানের বিরোধ চলছে। অ্যাবে বলেন, ভয় দেখিয়ে বা জোর করে বা শক্তি প্রয়োগ করে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আমরা সহ্য করবো না। এটি শুধু ইউরোপ বা ইউক্রেনের ক্ষেত্রেই নয়, পূর্ব এশিয়া এবং পুরো বিশ্বের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য হবে। এ সময় ইউক্রেনের ২৫ মে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে বৈধ হিসেবে স্বীকার করে নেয়ার জন্য তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। অ্যাবে বলেন, এর পাশপাশি, সঙ্কট মোচনে আমাদের রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। ন্যাটোর মহাসচিব রাসমুসেন বলেন, ইউক্রেনের সঙ্কটে ন্যাটো সামরিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, কিন্তু রাশিয়ার আক্রমণাত্মক ভূমিকা ফিরে আসায় পূর্ব ইউরোপের ন্যাটো সদস্য দেশগুলো উদ্বিগ্ন বোধ করায় সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পূর্ব ইউরোপে সেনা, আরো জাহাজ ও বিমান মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান রাসমুসেন। মিত্রদের রক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে ন্যাটো আরো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না বলে এ সময় হুঁশিয়ার করেন তিনি।