চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে বরণ করে নেয়ার প্রহর গুণছে ব্রাজিল। কিন্তু এতো আয়োজন, উত্কণ্ঠার মাঝেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা হলেও ভাবছে ব্রাজিলিয়ান কর্তৃপক্ষ। সেটা নিয়ে ভাবছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী অ্যালদো রাবেলো। এরপরও কোনভাবেই দেশটিকে যুদ্ধক্ষেত্র মানতে নারাজ তিনি।
ব্রাজিলে আন্দোলন বেশ ক’দিন যাবত্ই দানা বেঁধে উঠেছে। গত বছর কনফেডারেশন্স কাপ চলার সময়েও চলেছে উত্তেজনা। সর্বশেষ গত মাসে রিও ডি জেনিরোতে কোপাকাবানা সমুদ্র সৈকতেও ছড়িয়ে পড়ে এর উত্তাপ। এর মধ্যে গত সপ্তাহে শহরে ইংলিশ দলের হোটেলের কাছে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে মারা যায় একজন। তাই বিশ্বকাপের আমেজ নিয়ে উচ্ছ্বাস নয়, বরং ব্রাজিলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কাই প্রকাশ করেছে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো। তাদের উদ্দেশ্যে মোক্ষম এক জবাবই দিলেন ব্রাজিলিয়ান ক্রীড়ামন্ত্রী, ‘হ্যাঁ, আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যদিয়ে যেতে হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সত্যিই আমরা চিন্তিত। তবে ইংলিশদের জন্য একটা কথা বলতে চাই। এটা মোটেই আফগানিস্তান নয়; যেখানে সম্প্রতি তাদের কয়েকশ’ সৈনিক মারা গেছেন। ব্রাজিল মোটেই কোন যুদ্ধক্ষেত্র নয়।’ স্রেফ এই কথায় তো আর নিরাপদ থাকবে না ব্রাজিলের ভেন্যুগুলো। তাই আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বেশ বড় রকম রণ সাজেই সাজছে ব্রাজিলের আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী। বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিলিয়ান ও বাইরের বিশ্ব থেকে আসা দর্শক-সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন প্রায় দেড় লাখ পুলিশ। এছাড়া থাকবেন প্রায় বিশ হাজার বেসামরিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
গত বছর ব্রিটিশ একটি ট্যাবলয়েডে রিও’র মানাউসকে মৃত্যকূপ হিসেবে দেখানো হয়। পত্রিকাটির রিপোর্টে বলা হয়, এটা বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ এক অঞ্চল, যেখানে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই। আরো বলা হয়, এই অঞ্চলে নাকি প্রতি দিনে গড়ে তিনজন করে মানুষকে হত্যা করা হয়। এখানেই আগামী ১৪ জুন ইংল্যান্ড তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে ইতালির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি ইংল্যান্ড দলের কোচ রয় হজসন জানিয়েছেন, অ্যামাজনের উত্তাপকে এড়ানোর জন্যই এই ভেন্যুতে খেলতে চাইছে না তার দল।
বিশ্বকাপের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় এখন আর ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছে না ইংলিশরা। আর এখানেও রাবেলো একটা খোঁচাই দিলেন ইংলিশদের, ‘ঔপনিবেশিক আমলে তো ইংলিশদের উত্তাপে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার কথা। আর ইরাকেও তো এমনটাই হয়!’
