অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আইসিটি

আপডেট : ২৫ মে ২০১৯, ২১:২৫

আজকের মানব সভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে তথ্য-প্রযুক্তির উপর। প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে যে দেশ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে যত বেশি উন্নত সে দেশের এগিয়ে যাওয়ার পথ ততই সুগম। বর্তমান বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া এই দশ বছরে শহর থেকে গ্রামের প্রায় প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে গেছে। দুই দশক আগেও বাংলাদেশে প্রযুক্তি ছিলো সোনার হরিণ কিন্তু এখন দেশের প্রায় ৯ হাজার ডাকঘর ও ৫০০ উপজেলায় তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে।

‘এক্সেস টু ইনফরমেশন’ নাগরিক ও মানুষের মৌলিক অধিকার তথ্য পাওয়া ও নির্বিঘ্নে ব্যবহারের অধিকার। মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ও সরকারি-বেসরকারি চাকরির আবেদন করছে ঘরে বসে। কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তি এক বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায় ৭০ প্রজাতির উচ্চফলনশীল ধান ও অন্যান্য ফসলের বীজ উত্পাদন সম্ভব হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও কৃষকদের অবহিত করে সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ব্যাংকিং সেবা দেশের সর্বত্র নেই এবং অনেক মানুষ ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনকে ঝামেলা মনে করে। সনাতন ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্থলে মোবাইল ব্যাংক ব্যাংকিং সেবা অনেক সহজ করে দিয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে মুহূর্তেই এখন দেশের যে-কোনো প্রান্তে আর্থিক লেনদেন করা যায় এবং বিদেশ থেকে ঝামেলাহীনভাবে রেমিট্যান্স আসে। ব্যবসায়, ভ্রমণ, শিক্ষা এবং চিকিত্সার জন্য বিদেশ যেতে পাসপোর্ট ও ভিসা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে ঘরে বসেই অনলাইনে পাসপোর্ট-ভিসার মতো কাজ করা সম্ভব হয়। স্বাস্থ্য সেবায়ও তথ্য-প্রযুক্তির অবদান অনেক, ডাক্তারদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়া থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাও অনলাইনের মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে। বাস, ট্রেন, লঞ্চ, এমন কি প্লেনের টিকেটও কাটা যাচ্ছে অনলাইনে। এছাড়া ঢাকা শহরের মতো বড় বড় শহরে চালু হয়েছে উবার, পাঠাওয়ের মতো মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক কার রেন্ট সার্ভিস। প্রযুক্তি গ্রাম ও শহরের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে। গ্রামে বসেও নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে ফলে শহরের উপর বাড়তি মানুষের চাপ কমে আসবে।

২০৪১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে তথ্য প্রযুক্তি উন্মুক্ত করতে হবে। কারণ প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। দেশের প্রতিটি নাগরিকের হাতে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিয়ে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। জবাবদিহিতামূলক ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সঠিক তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। দেশের জনগণ যখন তার অধিকার, দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত হবে তখন সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দুর্নীতি কমে যাবে। আইসিটি নির্ভর ব্যবসা ই-কমার্সের জন্ম খুব বেশিদিন না হলেও এরই মধ্যে সারা পৃথিবীজুড়ে বিশাল একটি বাজার সৃষ্টি করেছে। ই-কমার্স দেশের বেকারত্ব সমাধানে ভূমিকা রাখছে, পাশাপাশি ক্রেতাদের সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচিয়ে দিচ্ছে। অনলাইনে কেনাকাটা, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফেসবুকে কেনাকাটা সবই ই-কমার্সের আওতাভুক্ত। ২০১৭ সালে ই-কমার্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রায় ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা আয় করেছে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সারাবিশ্ব জুড়ে আজ সফটওয়্যার মার্কেট গড়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর এবং আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতও বিভিন্ন দেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করছে। বিভিন্ন মোবাইল এপ্লিকেশন সফটওয়্যার রপ্তানিতে বাংলাদেশ নবীন এবং সফটওয়্যার বাজার ধরতে ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রয়োজন দক্ষ কম্পিউটার প্রোগ্রামার। সঠিক তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক তিনটি বিষয়েই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। শুধু অর্থনৈতিক মুক্তি ও বেকারত্ব দূর নয় তথ্য-প্রযুক্তি আজ একটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে জড়িত।

n লেখক:শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়