‘নেট নিউট্রালিটি’ বা ইন্টারনেটকে সকলের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি নিয়ে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক টিম বার্নস লি নিজেও ইন্টারনেটকে সকলের জন্য সমান সুযোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন শুরু থেকেই। কিন্তু এর মধ্যেই নানাভাবে ইন্টারনেটকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা চলছে বিভিন্ন দেশেই। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি) ইন্টারনেট বিষয়ক নতুন একটি আইনের প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাবনায় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে উচ্চমূল্য রাখতে পারবে যাতে করে এসব কোম্পানির ইন্টারনেট ট্রাফিক অন্যদের তুলনায় অগ্রাধিকার পেতে পারে। এই সুবিধা কিছু কোম্পানি পেলে তাতে করে স্বাভাবিকভাবেই অন্য অনেক কোম্পানিই তাদের ইন্টারনেট সেবা যথাযথভাবে পরিচালনা করতে সমস্যায় পড়তে পারে। এতে করে ‘নেট নিউট্রালিটি’ অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। অবশ্য নতুন এই আইন নেট নিউট্রালিটিকে খুব একটা বাধাগ্রস্ত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন এফসিসি চেয়ারম্যান টম হুইলার। তার সাথে একমত হওয়ার মতো প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম। ফেসবুক, টুইটার, গুগলের মতো বড় বড় সব টেক জায়ান্টও এই আইনের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে। সম্মিলিতভাবে এই জায়ান্টরা এফসিসি বরাবর এক খোলা চিঠিতে লিখেছেন, ‘আমরা সাম্প্রতিক সময়ে যে উদ্ভাবন প্রত্যক্ষ করেছি, তার মূলেই ছিল বৈষম্যহীন উন্মুক্ত ইন্টারনেট। কোটি কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর বাকস্বাধীনতা এবং সুযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করেছে উন্মুক্ত ইন্টারনেট।’ চিঠিতে আরও লেখা হয়, ‘ফেডারেল কমিশন ইন্টারনেট নিয়ে নতুন যে আইন প্রস্তাব করেছে তাতে ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর প্রতি কারিগরি এবং আর্থিক দিক থেকে বৈষম্য করা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা ইন্টারনেটের জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে আমরা মনে করি। এতে করে অনেক কোম্পানিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ এই চিঠিতে আরও একাত্ম প্রকাশ করেছে ইবে, অ্যামাজন, ফোরস্কয়ার, কিকস্টার্টার, লিংকডইন, মাইক্রোসফট, নেটফ্লিক্স, রেড্ডিট, ইয়াহু এবং জিংগা। এই প্রস্তাবনা ইন্টারনেটে অনেক সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটাবে বলে সতর্ক করেছেন টিম বার্নস লি-ও। ইন্টারনেটকে উন্মুক্ত রাখার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বানও জানান তিনি।
